‘আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস’ উপলক্ষে রাঙামাটির ২৯৯নং আসনের সাবেক সাংসদ ঊষাতন তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, পাহাড়ের যে কোন বিষয়ে কেউ কেউ তিলকে তাল করার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশ আদিবাসী থাকুক বা না থাকুক কিন্তু যে সংজ্ঞা রয়েছে সেই সংজ্ঞা অনুযায়ী এদেশে লোকজন রয়েছে, পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠী এই দেশে রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার স্বীকার করুক না করুক এখানে পশ্চাদপদ জনগণ, সুযোগ বঞ্চিত, অধিকার বঞ্চিত মানুষ রয়েছে। আমরা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হিসেবে না, ‘আদিবাসী’ হিসেবে বেঁচে থাকতে চাই। এসময় তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে পাহাড়ে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল। গত ২১ বছরে আমরা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি বিরোধিতা করেনি। আমাদের চিন্তা-ভাবনার মধ্যেও এমন কিছুই ছিল না।
বিষয় ‘আদিবাসী ভাষা চর্চা ও সংরক্ষণে এগিয়ে আসুন’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে দিবসটি উপলক্ষে শুক্রবার সকালে রাঙামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণে এক আলোচনা সভায় সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার এ কথা বলেন। আলোচনা সভার পূর্বে বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে সাবেক সাংসদ ঊষাতন তালুকদার। এসময় নৃত্য পরিবেশন করা হয়।
নৃত্য পরিবেশন শেষে অনুষ্ঠিত সভায় বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উদ্বোধক ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- রাঙামাটি আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট দীননাথ তঞ্চঙ্গ্যা। সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা, জেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শিব প্রসাদ মিশ্র, নারী নেত্রী নাই প্রু মারমা(মেরি)। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আদিবাসী দিবস উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ইন্টু মনি তালুকদার। সভায় সংহতি প্রকাশ করেন চাকমা রানী ইয়েন ইয়েন।
আলোচনা সভা শেষে আদিবাসী দিবসের শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙামাটি জেলা শিল্পকলা একাডেমী এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
