জিয়াউল জিয়া ও শুভ্র মিশু ॥
রাঙামাটিতে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা জাতিগোষ্ঠীর ২৮হাজার ৭৪৬জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৬৫ হাজার বই বিতরণ করা হচ্ছে। শনিবার সকাল থেকেই সরকারি নিদের্শনা অনুসারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বই বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূূত্রে জানা যায়, এই বছর প্রাথমিক পর্যায়ে রাঙামাটিতে ৮৫ হাজার ২৮ জন শিক্ষার্থীকে ৩ লক্ষ ৭৯ হাজার ৯ শত বই বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়াও চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা ভাষায় প্রাক-প্রাথমিক থেকে ৩য় শ্রেণি পর্যন্ত ২৮ হাজার ৭শত ৪৬ জন শিক্ষার্থীকে ৬৪ হাজার ৩শত ৫টি নিজস্ব মাতৃভাষায় বই বিতরণও শুরু হয়েছে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এইবছর জেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ে বিতরণ করা হচ্ছে ৮ লক্ষ ৯০ হাজার বই। প্রথম দিনে মাধ্যমিকে বই পেয়েছে ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ করা হবে।
শহরের পৌর জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী খুমই ত্রিপুরা, দুর্গম পাহাড়ি গ্রামে জন্ম নেয়া পিতা মাতার অসচ্ছলতায় উচ্চ শিক্ষা অর্জনে এসেছে শংকর মিশন অনাথ আশ্রমে। সে জানান, বছরের প্রথম দিনে নতুন বই পেয়ে আমরা খুব খুশি লাগছে। নতুন বইয়ের ঘ্রাণ আমার খুব ভালো লাগে, প্রথম দিন শুধু বইয়ের প্রতিটি পাতাই আমি খুলে দেখবো, আর ঘ্রাণ নেব। নতুন বই হাতে পেয়ে খুমইয়ের মতো খুশি যুবরাজ, সালকাসাংরাও।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাজ্জাত হোসেন জানান, আমাদের হাতে সে সকল বই এসেছে তা জেলার দুর্গম এলাকা পর্যন্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বছরে প্রথম দিনেই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে বই বিতরণ শুরু হয়েছে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, চাহিদা অনুসারে বই আসতেছে ইতিমধ্যে যেসকল বই এসেছে তা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। কিছু বই এখনো আসেনি সেগুলো আশা করছি কিছুদিনের মধ্যে চলে আসবে।
