মিন্টু মারমা, মানিকছড়ি ॥
দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস প্রজনন ক্ষেত্র ‘বঙ্গবন্ধু হেরিটাইজ’ খ্যাত হালদা নদীর উজান খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার বিশাল অংশজুড়ে গত বেশ কয়েক বছর যাবৎ তামাক চাষ হলেও সম্প্রতি বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতায় তামাকের আগ্রাসন থেকে বেরিয়ে আসছে চাষিরা। তামাকের বিকল্প জীবিকায়নে চাষ হচ্ছে বিভিন্ন জাতের সবজি ও ফলমূল। এরই অংশ হিসেবে এবার উপজেলার ৮০ শতক জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ হয়েছে। এতে বেশ সফলতাও পেয়েছে চাষিরা।
হালদা নদীতে মাছের উৎপাদনশীলতা রক্ষায় সরকারের গৃহীত প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে বেসরকারি সংস্থা ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আইডিএফ) ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। সংস্থাগুলো বিভিন্ন ধারাবাহিক কার্যক্রমের ফলেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কমে এসেছে তামাক চাষ।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, তামাক চাষিদের বিকল্প জীবিকায় সৃষ্টির ফলে উপজেলার গোরখানা, আছাদতলী, তুলাবিল, ছদুরখীল এলাকার চাষিরা ঝুঁকছে বিভিন্ন সবজি চাষাবাদে। এরই অংশ হিসেবে এবছর উপজেলার গোরখানা এলাকার ২০-২৫ জন চাষি তামাক চাষ ছেড়ে আইডিএফ ও পিকেএসএফের সহযোগিতায় মালচিং পদ্ধতিতে উচ্চ মূলের ফসল গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ করেছে। অধিক উৎপাদন ও সহজ বাজারজাত করতে পেরে হাসি ফুটেছে চাষিদের মুখে। পাশাপাশি ঐ এলাকায় বেড়েছে অন্যান্য চাষাবাদের উৎপাদনশীলতা।
তরমুজ চাষি মো. চাঁন মিয়া, আলী মিয়া ও খোরশেদ আলমের সাথে কথা হলে তারা জানান, তারা দীর্ঘ বছর যাবৎ হালদা পাড়ে তামাক চাষ করে আসলেও সম্প্রতি হালদা রক্ষা কমিটির পরামর্শ ও সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় তামাক চাষ ছেড়ে মালচিং পদ্ধতিতে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ ও বিভিন্ন জাতের দেশি বিদেশি সবজির আবাদসহ তামাকে বিকল্প চাষাবাদে ঝুঁকছেন তারা। তরমুজের এবার ভালো ফলন হওয়ায় লাভবানও হয়েছেন চাষিরা। এসময় তারা এইসব বেসরকারি সংস্থার পাশাপাশি সরকারি কৃষি অধিদপ্তরের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
আইডিএফের জুনিয়র কৃষি কর্মকর্তা মো. রুবেল হোসেন জানান, এই প্রথম এই অঞ্চলে মালচিং পদ্ধতিতে তরমুজ চাষে কৃষকদের পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হয়েছে। ফলন খুবই ভালো হয়েছে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। ইতিমধ্যে বছর ৬০০-৭০০ কেজির মতো তরমুজ বিক্রি হয়েছে। আরও ৮০০-৯০০ পিচ তরমুজ ক্ষেত থেকে সংগ্রহ করতে পারবো। এইসব তরমুজ স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রেরণ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে হালদা প্রকল্প ব্যবস্থাপক ও আইডিএফ’র মৎস কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, পিকেএসএফের সহযোগিতায় ও আইডিএফের বাস্তবায়নে হালদার উজানের তামাক চাষিদের মাঝে “হালদা নদীর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও হালদা উৎসের পোনার বাজার সম্প্রসারণ শীর্ষক” প্রকল্পের আওতায় বিগত কয়েক বছর যাবৎ প্রশিক্ষণ প্রদান ও তামাকের বিকল্প জীবিকায়ন সৃষ্টিতে কৃষকদের বিভিন্ন জাতের সবজি ও উচ্চ ফললশীন ফসল আবাদে আগ্রহী করা হচ্ছে কৃষকদের। এতে হালদা পাড়ে কমে এসেছে তামাক চাষ। হালদার পানিও অনেকটা দূষণমুক্ত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সাল থেকে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর চঅঈঊ প্রকল্পের অর্থায়নে ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আইডিএফ) হালদা নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও মিঠা পানির প্রবাহ নিশ্চিতকরনে হালদা’র উজান খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার তামাক চাষীদের বিকল্প জীবিকায়ন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে বিগত কয়েক বছর যাবৎ উপজেলার বাটনাতলী, গোরখানা, যোগ্যাছোলা, আছাদতলী এলাকায় তামাক চাষীদের বিকল্প জীবিকায়ন সৃষ্টির লক্ষে কৃষকের মাঝে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান, সবজি বীজ, মাছের পোনা, মুরগীর বাচ্চা, উন্নত প্রজাতির পেঁপে, আম, কাঁঠাল, শরিফাসহ বিদেশি ফল রামবুটান ও ড্রাগনে চারা বিতরণ করে আসছে সংস্থাগুলো।
