‘বুদ্ধ কি..? জয়, ধর্ম কি..? জয়, সংঘ কি ..জয় এবং সাধু সাধু সাধু’ ধ্বনিতে রাঙামাটি জেলার বালুখালী ইউনিয়নের কাইন্দা মরিচ্যাবিল এলাকার অন্যতম রাজবন বিহারের শাখা বিহার তপোবন অরণ্য কুটিরে প্রবারণানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হয় বিভিন্ন দানানুষ্ঠান। দূর-দূরান্ত থেকে সমবেত হয় হাজারো পুণ্যার্থীর ঢল। অনুষ্ঠানের শুরুতেই ভিক্ষু সংঘকে সম্মাননা স্মারক প্রদান ও ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পুরো অনুষ্ঠান মঞ্চ পুণ্যার্থীদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠে। পরে জয়ন্তী চাকমা ও তাপসী চাকমার উদ্বোধনী ধর্মীয় সংগীতের মাধ্যেমে শুরু হয় প্রবারণা অনুষ্ঠান। নিজ সংস্কৃতি বিকাশ ও প্রচারের তাগিদে সম্পূর্ণ চাকমা ভাষায় অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পূর্বাশা চাকমা ও স্বর্ণালী চাকমা। পঞ্চশীলে দীক্ষিত হওয়ার পর বিশেষ প্রার্থনা পাঠ করেন অনিল বিকাশ চাকমা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ৬ নং বালুখালী ইউপি চেয়ারম্যান বিজয়গিরি চাকমা,তিলক চন্দ্র চাকমা, সুধাশংকর চাকমা প্রমূখ।
দেব মানবের হিতসুখ ও মঙ্গলার্থে বুদ্ধমুর্তি দান, সংঘদান,অষ্টপরিস্কার দান, হাজার প্রদীপ দান, চীবর দান সহ নানা বিধ দান অনুষ্ঠিত হয়।
প্রবারণার তাৎপর্য, অহিংসার ফল,দান,শীল,ভাবনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক উল্লেখপূর্বক পুণ্যার্থীদের মাঝে স্বধর্ম দেশনা প্রদান করেন রাঙামাটি রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান ও বিহার অধ্যক্ষ শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির,সুমন মহাস্থবির ও তপোবন অরণ্য কুটিরের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ জিনপ্রিয় মহাস্থবির।
এছাড়া অনুষ্ঠানের শেষে নারী-পুরুষ দু’ভাগে ভাগ করে প্রবারণা অধিস্তান করা হয়। অতীতের সমস্ত ভুল গুলো স্বীকার পূর্বক ভিক্ষু সংঘের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কার হয়।
প্রসঙ্গত, আশ্বিনী বা প্রবারণা পূর্ণিমা বৌদ্ধদের কাছে এক অবিস্মরণীয় দিন। প্রবারণা বৌদ্ধ ধর্মীয় অনুশাসনের অন্যতম এক ধর্মীয় উৎসব যাকে আত্মঅন্বেষণ ও আতœসমর্পনের তিথি বলা যায়। আবার এই দিনে পূর্ণাঙ্গ অভিধর্ম দেশনা সমাপ্ত হওয়ায় এই দিবসকে অভিধর্ম দিবসও বলা হয়।
Previous Article‘বিএনপি-জামাত পাহাড়ের অবৈধ অস্ত্র সমর্থন করে’
Next Article বান্দরবানের আজিজনগরে ইয়াবা’সহ আটক ২
