পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির আন্তর্জাতিক মুখপাত্র ড. রামেন্দু শেখর দেওয়ানের অবদান ও তাঁর আত্মত্যাগনিপীড়িত-নির্যাতিত মুক্তিকামী মানুষ আন্দোলন-সংগ্রামে অনুপ্রাণিত হবে বলে এক ভার্চুয়াল স্মরণসভায় বক্তারা অভিমত তুলে ধরেছেন বলে জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে ইমেইলে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে-‘গত ২৯ মার্চ ২০২১ যুক্তরাজ্যের ম্যানচেষ্টারে নিজ এ্যাপার্টমেন্টে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করা এই মহান বিপ্লবীর মৃত্যুতে তাঁর মহান অবদান ও আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বুধবার ২৮ জুলাই ২০২১ সকাল ১১:০০ ঘটিকা থেকে একটি ভার্চুয়াল স্মরণসভার আয়োজন করে জনসংহতি সমিতি ।’
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়-‘ পার্বত্য চট্টগ্রাম জন সংহতি সমিতির সহ সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং জনসংহতি সমিতির তথ্য ও প্রচারবিভাগের সদস্য দীপায়ন খীসার সঞ্চালনায় আলোচক হিসেবে ছিলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, আদিবাসী ও সংখ্যালঘু বিষয়ক সংসদীয় ককাসের সমন্বয়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল, বাংলাদেশ আদিবাসীফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ড. জোবাইদা নাসরিন কণা, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিরকেন্দ্রীয় সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য গৌতম কুমার চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান এবং পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি সুমন মারমা । এছাড়াও ড. দেওয়ানকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিতির সাবেক সভাপতি জ্যোতিপ্রভা লারমা ও তাঁর জীবনী পাঠ করেন বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের সহ সভাপতি চন্দ্রা ত্রিপুরা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা’র শোকবার্তা পাঠ করেন দীপায়ন খীসা।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়-‘জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) তাঁর শোক বার্তায় বলেন, তাঁর মৃত্যুতে জুম্ম জাতি হারালো একবিপ্লবী সন্তানকে আর পার্টি হারালো এক আদর্শবান ও নি:স্বার্থ বন্ধুকে। শোক বার্তায় সন্তু লারমা আরো বলেন, তিনি (ড. দেওয়ান) ছিলেন একজন নিখাদ দেশপ্রেমিক, মানবাধিকার সুরক্ষা কর্মী ও দৃঢ়চেতা সংগ্রামী। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির আন্তর্জাতিকমুখপাত্র হিসেবে জুম্ম জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার আন্দোলনের পক্ষে তিনি ছিলেন অটুট মনোবলের অধিকারী একজন অতুলনীয়প্রচার সৈনিক। তাঁর নিরলস প্রচারাভিযানের ফলে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপে জুম্ম জনগণের অধিকারের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে উঠে এবং তা ক্রমাগত শক্তিশালী হয়ে আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার আন্দোলনের অন্যতম সহায়ক শক্তিতে পরিণত হয়েছিল। তাঁর প্রয়াণে যে শুন্যতা সৃষ্টি হয়েছে তা অপূরণীয় ।’
এদিকে স্মরণ আয়োজনে প্রবীণ রাজনীতিবিদ পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন,তিনি যে অবদান রেখেগেছেন তা জুম্ম জনগণের জন্য আত্মবলিদান করে গেছেন এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের জন্য তিনি ‘নেপথ্য নায়ক’ বলেও মনে করেনএই প্রবীণ নেতা।পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জন্য তিনি সারা বিশ্ব ব্যাপী যে প্রচার অভিযান চালিয়েছিলেন তা কোনোমতেই ছোট করাযাবে না। তাঁকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য একটি স্মারক গ্রন্থ এবং সচিত্র চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য তরুণ প্রজন্মের কাছে আহ্বানও জানান। যে জীবন নিজের নয়, মানুষের, দশের জন্য যাপন করে গেছেন সে জীবনকে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।’ ( সংবাদ বিজ্ঞপ্তি)
