জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ও সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মোর্ত্তজার বিরুদ্ধে ফেসবুকে ‘অসদাচরণ’ পোস্ট দেওয়ার পর ডা. একেএম রেজাউল করিমকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলি করা হয়েছে। এর আগে সে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের হেমাটো অনকোলজি বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে ‘শাস্তিমূলক’ ব্যবস্থা হিসেবেই এই বদলির আদেশ দেওয়া হলেও রাঙামাটিবাসীর মাঝে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই বদলির আদেশের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
রাঙামাটির বিশিষ্টজনরা বলছেন, দেশের পিছিয়ে পড়া একটা এলাকায় এমন চিকিৎসককে বদলি করা হলে সে এলাকা আরও পিছিয়ে যাবে। পাহাড় মানেই কাউকে শাস্তি দেওয়ার স্থান নয়। এ ধরণের ধারণা থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বেরিয়ে আসতে হবে।
এ প্রসঙ্গে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য ও শিক্ষাবিদ নিরূপা দেওয়ান বলেন, ‘আমরা এমনিতেই পিছিয়ে রয়েছি। তারপর এসব লোকদের রাঙামাটিতে বদলি করা হলে এখানকার চিকিৎসা সেবা থেকে স্থানীয়রা বঞ্চিত হবে। অন্যান্য জেলায় চাকুরিরত অবস্থায় অপরাধী হিসেবে বিবেচিত হওয়ার পর তাকে শাস্তিস্বরূপ রাঙামাটিতে বদলি করে দেওয়া হচ্ছে। এভাবে সকল অযোগ্য লোকদের এখানে পাঠানো হলে সবার চোখে রাঙামাটিকে ছোট করা এবং শাস্তিমূলক জায়গা হিসেবে চিহ্নিত করে হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পাহাড়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য আমরা প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে যাচ্ছি। সেখানে অভিযুক্ত কর্মকর্তা বা অভিযুক্ত ডাক্তারদের পাঠানো হচ্ছে। আমরা চাই এমন কর্মকর্তা বা ডাক্তার পাঠানো হউক যারা আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতিকে সম্মান করবে। এখানকার মানুষের সেবাই নিয়োজিত থাকবে।’
‘মাশরাফি দেশের গৌরব, তাকে নিয়ে যিনি নেতিবাচক মন্তব্য করতে পারে সেই ধরণের মানুষের কাছে রাঙামাটিবাসী কিছুই আশা করতে পারে না।’- বলেন নিরূপা।
অন্যদিকে সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) রাঙামাটি জেলার সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলী ভূঁইয়া বলেন, ‘সরকারের এসব ক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হওয়া জরুরি। যারা সরকারি কাজে অনিয়ম করবে তাদের শাস্তিস্বরূপ পাহাড়ে পাঠাবে। ভালো কর্মকর্তাদের এখানে পাঠাবে না এটা হতে পারে না। আমার দৃষ্টিতে এটি খুব খারাপ একটি দৃষ্টান্ত। পাহাড়ে বদলি মানে শান্তি বলে হয়ে থাকে আগে থেকেই। এমন ধারণা আমাদের পাল্টাতে হবে।’
প্রসঙ্গত, গত ২৮ এপ্রিল এই চিকিৎসক তার ফেসবুক পোস্টে মাশরাফি বিন মোর্ত্তজার একটি হাসপাতাল পরিদর্শন ও কিছু বক্তব্য নিয়ে ‘অসদাচরণ’ পোস্ট দেন। এতে ডা. একেএম রেজাউল করিম লেখেন, ‘বাংলাদেশের ডাক্তারদের বোল্ট (বোল্ড) করতেই বড়ই আনন্দ। ম্যাশ চিকিৎসার জন্য অনেকবার ডাক্তারদের ছুরি কাঁচির নিচে গেছেন। তাদের অনেক তোয়াজ করতে হইছে। সেই ডাক্তারের বংশবদ পাইছি এবার।’
সামাজিক মাধ্যমে এই স্ট্যাটাস নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠলে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয় চিকিৎসকের ওই ফেসবুক স্ট্যাটাসকে অনুচিত, অনভিপ্রেত ও অসদাচরণ হিসেবেও উল্লেখ করে। তারই ধারাবাহিকতায় গত ৬ মে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে অধ্যাপক ডা. একেএম রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে কেনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়।
