রাঙামাটি শহরে পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে বসবাস করা লোকজনকে নিরাপদে বা আশ্রয় কেন্দ্রে সরে যেতে মাইকিং করেছে জেলা প্রশাসন। রবিবার সকালে শহরে এই মাইকিং করা হয়।
কয়েকদিন ধরে বর্ষার থেমে থেমে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় আবার দেখা দিয়েছে জনমনে পাহাড় ধস আতঙ্ক। বর্ষার বৃষ্টিতে কোন ভাবে পাহাড় ধস হলে মৃত্যুর হার শূণ্যে রাখতে ইতিমধ্যে নানা প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন। যার অংশ হিসেবে অতি বা ভারি বৃষ্টির আশঙ্কায় পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা লোকজনকে নিরাপদ স্থানে বা আশ্রয় কেন্দ্রে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
জেলা তথ্য অফিসের করা এই মাইকিংএ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্ষার অতিবৃষ্টি বা ভারি বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসের ঝুঁকি রয়েছে। যার কারণে ঝুঁকিতে থাকা লোকজনকে নিরাপদ স্থানে বা নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে। জেলা শহরের চেঙ্গি মুখ, পাবলিক হেলথ এলাকা, শিমুলতলী, রাজমনি পাড়াসহ ৩৩টি পয়েন্টে পাহাড় ধসের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে অন্তত ৫হাজার পরিবারের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে ২৯টি আশ্রয় কেন্দ্র।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) উত্তম কুমার দাশ জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা লোকজনকে নিরাপদে বা নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে। যাতে করে অতিবৃষ্টি বা ভারি বৃষ্টির কারণে কোনভাবে প্রাণহানি না হয়।
উল্লেখ্য, তিন বছর পূর্বে ২০১৭ সালে রাঙামাটিতে টানাবর্ষণে ভ‚মিধসে ১২০ জনের প্রাণহানি ঘটে। লন্ডভন্ড হয়ে যায় রাঙামাটি শহরসহ উপজেলাগুলো। বন্ধ হয়ে যায় দেশের সাথে সড়ক পথের যোগাযোগ। প্রাণহানির পাশাপাশি কৃষি জমি ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়। ২০১৮সালে নানিয়াচরে পাহাড় ধসে প্রাণ যায় ১১ জনের ও ২০১৯ সালে কাপ্তাইয়ে ৪ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
