কাপ্তাই হ্রদের তীরবর্তী জায়গায় ‘অবৈধভাবে’ বহুতল হোটেল নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। রবিবার দুপুরে রাঙামাটি শহরের রিজার্ভমুখ এলাকায় শহীদ মিনারের পাশের হ্রদবর্তী খালি স্থানে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অর্থায়নে আবাসিক হোটেল নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেন জেলা প্রশাসনের সহকারি কমিশনার সিরাজুল ইসলাম। জেলা প্রশাসকে নির্দেশে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে এই কাজটি বন্ধ করেছেন তিনি।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছে, ‘হ্রদ দখল করে হোটেল নির্মাণ করা হচ্ছে এমন অভিযোগ পেয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এটা আমাদের নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান। হ্রদ দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে জেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও হ্রদ নদী দখলের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন।’
এ বছরের মার্চের ৪ তারিখ রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষ কেতু চাকমা শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকায় কাপ্তাই হ্রদ তীরবর্তী এলাকায় পর্যটন মোটেল নির্মাণের জন্য ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন করেন। জেলা পরিষদের তথ্য মতে আবাসিক হোটেল নির্মাণের জন্য ৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে যা আগামী ২০২১ সালে কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার কথা হয়েছে। জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমউল্লাহ’র ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই হোটেলটির নির্মাণ কাজ করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
রাঙামাটি জেলা পরিষদের প্রভাবশালী সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হাজী মো: মুছা মাতব্বর জানিয়েছেন, আমরা আমাদের জায়গায় পর্যটকদের সুবিধার কথা চিন্তা করে নিজেদের অর্থায়নে হোটেল নির্মাণ করছি। জেলা প্রশাসন কেনো কাজটি ভ্রাম্যমান আদালত পাঠিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। জায়গাটি আমাদের বাজারফান্ডের জায়গা। আমাদের চেয়ারম্যান ও প্রধাননির্বাহী রাঙামাটির বাইরে আছেন,তারা আসার পর এই বিষয়ে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নিবো।’
