রাঙামাটির সাপছড়ি ইউনিয়নের অন্যতম বৌদ্ধ তীর্থপ্রতিষ্ঠান বোধিপুর বনবিহারের অধ্যক্ষ মিতভাষী শ্রীমৎ জিনবোধি মহাথের’র ৪৯তম জন্মজয়ন্তী পালিত হয়েছে। বুধবার সকালে বুদ্ধ পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী জমকালো ধর্মীয় অনুষ্ঠান। প্রথমদিনে বনভান্তের স্মৃতিচারণে কণ্ঠশিল্পী লক্ষীদেবী চাকমা ও প্রিয় চাকমার উদ্বোধনী ধর্মীয় সঙ্গীত পরিবেশনে শুরু হয় প্রথম দিনের বর্ণাঢ্য ধর্মীয় কর্মসূচি।
এছাড়াও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় জিনবোধি মহাথের’র জন্মজয়ন্তীর ধর্মীয় উৎসব ঘিরে ভগবান বুদ্ধের পবিত্র বুদ্ধধাতু, ত্রিপিটক ৮৪ হাজার ধর্মস্কন্ধ পূজা, ত্রিপিটক শোভাযাত্রা, বুদ্ধমূর্তি দান, সংঘ দান, অষ্টপরিস্কার দান, মহালাভী সীবলী পূজা, মঙ্গলসূত্র পাঠ, ধর্মীয় দেশনাসহ আয়োজন করা হয় নানান কর্মসূচি। ৮মার্চে ধর্মীয় গাম্ভীর্য্যে মোড়ক উন্মোচন হবে জিনবোধি মহাস্থবিবের লেখা ‘বন্দুক ভাঙা আমি’ নামক প্রন্থটির।
সকালে মোমবাতি জ¦ালিয়ে কেক কাটার পরে ভিক্ষু সংঘকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে পুণ্যার্থীদের পঞ্চশীল গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দানোৎসব। এতে পঞ্চশীল প্রার্থনা করেন চন্দ্রলক্ষী চাকমা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মল্লিকা চাকমা। পবিত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেয় দুই শতাধিক পুণ্যার্থী।
পরে ধর্মদেশনায় জগতের মাঙ্গলিক কামনাসহ দান, শীল, ভাবনার গুরুত্বরোপ করেন বোধিপুর বনবিহারের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ জিনবোধি মহাস্থবির, রাঙামাটি রাজবন বিহারের শ্রীমৎ জ্ঞানপ্রিয় মহাস্থবির ও প্রজ্ঞাদর্শী ভিক্ষু প্রমূখ। তারা আরো বলেন, জন্মদিবস উদযাপন করা মানে এ নয় যে আনন্দ-উল্লাস করা। জন্মদিবস পালনে বিভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে। পূজ্য বনভান্তের জন্মদিবস উদযাপন ও অন্যান্য মহাস্থবির ভিক্ষুদের জন্মদিবসে তাদের জন্মদিনে স্মৃতিচারণ করা , সম্মান জানানো এবং স্মৃতি রাখা হচ্ছে জন্মদিন উদযাপনের একটি অন্যতম দিক। এভাবে গুরুজনদের ও পূজনীয় ভিক্ষু সংঘের জন্মদিবস উদযাপন করে দেওয়া মহা পূণ্যফল লাভ হয়।
এছাড়াও সকালে অনুষ্ঠান শেষে বেলা ২ টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ধর্মীয় সঙ্গীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
