সম্প্রতি পদ্মা সেতু নির্মানে মানুষের মাথা প্রয়োজন বলে ব্যাপক গুজব ছড়ানো হয়েছে। সপ্তাহ খানেক এই গুজবের পর সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি ক্লিয়ার করে বলা হয়েছে-এটি ¯্রফে গুজব। গুজব ছড়ানোর সাথে জড়িত কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। এই গুজবের পর দেখা দিয়েছে ছেলে ধরা আতঙ্ক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু পেইজ থেকে বিষয়টি ব্যাপক প্রচারও করা হচ্ছে। কেউ কেউ অতি উৎসাহী হয়ে এসব সংবাদ শেয়ার করেও প্রচার করছে। যার কারণে অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। পাড়া-মহল্লায়, চায়ের দোকানে কিংবা আড্ডাস্থলে বিষয়টি নিয়েও কথা উঠে। ওই পাড়া থেকে এতজন, এই পাড়া থেকে এতজন ছেলে-মেয়ে নিঁেখাজ হয়েছে বা ছেলে ধরা নিয়ে গেছে। কিন্তু নির্দিষ্ট করে কোন এলাকা থেকে কার সন্তানকে নিয়ে গেছে সেই ব্যাপারে কেউ কোনো তথ্য দিতে পারেনা।
গত ১৬ জুলাই রাঙামাটি শহরের শহীদ আবদুল আলী একাডেমি স্কুল সংলগ্ন এলাকা থেকে পারভেজ নামে ১০ বছরের বাক প্রতিবন্ধী এক বালক নিখোঁজ হয়েছে। তার খোঁেজ শহরে মাইকিংও করা হয়েছে।
এর আগে শহরের কলেজ গেইট এলাকা থেকে ৪ জুলাই দুই ছেলে কাপ্তাই গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। কলেজ গেইট এলাকার তপন মল্লিকের ছেলে দীপ্ত মল্লিক(১১) ও একই এলাকার চন্দন দাশের ছেলে শিমুল দাশ(১৬) কাপ্তাইয়ের বড়ইছড়িতে বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছে। গত ১১ জুলাই কাপ্তাই থানায় সাধারন ডায়েরীও করেছে অভিভাবকগণ। তবে ১৬ জুলাই চন্দ্রঘোণার লিচুবাগানে একটি চায়ের দোকানে পাওয়া যায় তাদের বলে নিশ্চিত করেছেন কাপ্তাই থানার ওসি (তদন্ত) নুরুল আলম। তিনি জানিয়েছেন, তারা দুজন হারায়নি,বাসা থেকে পালিয়েছিলো।’
রাঙামাটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিলন চাকমা ও শহীদ আবদুল আলী একাডেমি স্কুলের প্রধান শিক্ষক আলহাজ¦ মোঃ নজরুল ইসলাম চৌধুরী জানান, বিষয়টি ফেসবুকে দেখেছি। অভিভাবকরাও এই বিষয় নিয়ে আমাদের কাছে কিছু বলেননি। এটি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্নও নই; কারন এটি ¯্রফে গুজব। তারা অভিভাবকদের এসব গুজবে কান না দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
তৈয়বিয়া আইডিয়াল স্কুলের অধ্যক্ষ আলহাজ¦ মোঃ আখতার হোসেন চৌধুরী জানান, ছেলে ধরার বিষয়টা নানাভাবে আমার কানেও এসেছে। আসলে বিষয়টা নিয়ে দেখলাম অভিভাবকরা বেশ উদ্বিগ্ন। অভিভাবকরা শংকা প্রকাশ করছেন। আগের তুলনায় স্কুলে অভিভাবকের উপস্থিতিও বেড়েছে। বিষয়টি শুনে স্কুলের পক্ষ থেকে আমরা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছি। টিফিন ছুটির সময় যাতে স্কুলের শিক্ষার্থীরা স্কুল গন্ডির বাইরে যেতে না পারে সেজন্য একজনকে বিশেষ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আর স্কুলের ছোট ছোট বাচ্চারা যাতে অভিভাবক ছাড়া স্কুলে না আসে এবং স্কুল ছুটির পরেও যেন অভিভাবক ছাড়া না যেতে পারে বিষয়টা নিশ্চিত করেছি।
রাঙামাটি ইন্টারন্যাশনাল রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের অধ্যক্ষ মোঃ শফিউল আলম চৌধুরী জানান, ছেলে ধরার বিষয়টি আমার কাছে গুজবই মনে হয় কারণ লোকজন বলে অমুক জায়গা থেকে এতজন তমুক জায়গা থেকে এতজন ধরে নিয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট করে কেউ বলতে পারেনা। ইদানিং অভিভাবকরা ফোন করে বলেন-স্যার আমার বাচ্চাটাকে একটু দেখবেন। আমরাও শিক্ষার্থীদের সতর্ক করেছি-অপরিচিত কারো কিছু না খেতে, অপরিচিত কেউ ডাকলে না যেতে।
কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর জাহিদুল ইসলাম রনি বলেন, এটি ¯্রফে গুজব। ছেলে ধরা নিয়ে গেছে এই ধরনের কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে হারিয়ে যাওয়ার যেসমস্ত অভিযোগ আসে তা প্রেম ঘটিত। প্রেমের কারনেই ছেলে মেয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। পরে মামলা হলে পুলিশ উদ্ধারও করছে। ছেলে ধরা নিয়ে গেছে এরকম কোনো তথ্যও তার কাছে নেই বলে জানান তিনি। অভিভাবকদের গুজবে কান না দেয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
