রাঙামাটির বরকল উপজেলার ভুষনছড়ায় চাল নিয়ে রীতিমত চালবাজি শুরু হয়েছে। উপজেলার ভুষনছড়া বাজারের হাজী রফিকুল ইসলামের দোকানে ৬৩ বস্তা চাল এনে বিক্রি করাকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ অভিযোগ করে, ভুষনছড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও ৭নং ইউপি সদস্য আবু সাঈদ ত্রানের চাল দরিদ্রদের মাঝে বন্টন না করে খোলা বাজারে বিক্রি করছে।

বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মামুন উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানান। ইউএনও চালগুলো জব্দ করার নির্দেশ দেন চেয়ারম্যানকে। পরে জানা যায় চালগুলো রেশনের চাল এবং এই চাল হাজী রফিকুল ইসলাম রাঙামাটি শহরের রিজার্ভ বাজার কাদের স্টোর থেকে কিনে নেন। তবে সরকারি বস্তা না পাল্টানোর কারণে স্থানীয়দের মাঝে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। ফলে ইউপি সদস্য আবু সাঈদ ত্রানের চাল বন্টন না করে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ তুলেন অনেকেই।
বরকল উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক দয়াল চাকমা বলেন, ‘‘আবু সাঈদ ইউপি চেয়ারম্যান মামুনের ঘনিষ্ট আত্মীয়। তারা যোগসাজসে এই চাল বিক্রি না করে খোলা বাজারে বিক্রির চেষ্টা করে।

বিষয়টা স্থানীয় লোকজন জানার পরে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন এসে চালগুলো জব্দ করেছে। তিনি বলেন, ইউপি সদস্য আবু সাঈদ আগেও ত্রানের চাল নিয়ে নয় ছয় করেছে। সপ্তাহখানেক আগেও প্রতিজনকে দশ কেজি করে চাল দেয়ার কথা থাকলেও দিয়েছে পাঁচ কেজি করে। পরে জানাজানি হলে নিজেদের লোক দিয়ে এই অপকর্ম ঢাকা দেয় তারা।’’
একই অভিযোগ করেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য মোঃ আলমগীর। তিনি বলেন, ইউপি সদস্য সাঈদ ত্রানের চাল দরিদ্রদের মাঝে বন্টন না করে স্থানীয় ব্যবসায়ী হাজী রফিকুল ইসলামের দোকানে বিক্রি করার জন্য দেয়। এই সংবাদ স্থানীয় লোকজন প্রশাসনকে জানালে চালগুলো জব্দ করা হয়। এর আগেও সে ত্রান বিতরণে অনিয়ম করেছে। ইউপি সদস্য আবু সাঈদ চেয়ারম্যান মামুনের ঘনিষ্টজন বলে জানায় মোঃ আলমগীর।’’
ভুষনছড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও ৭নং ইউপি সদস্য আবু সাঈদ জানান, ভুষনছড়া বাজারের হাজী রফিকুল ইসলামের দোকানে চাল আনাকে কেন্দ্র করে কিছু লোক আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায় যে আমি ত্রানের চাল আত্মসাৎ করেছি। অথচ এই বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। ৬৩ বস্তা চালতো পুরো ইউনিয়নের জন্যই বরাদ্দ আসেনা। সেখানে আমি এক ওয়ার্ডের জন্য এত বস্তা পাব কই। ৭নং ওয়ার্ডের জন্য ইতোমধ্যে পাঁচ বস্তা চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আমি পর্যায়ক্রমে এসব চাল তালিকাভুক্ত লোকজনের মাঝে বন্টন করছি। তিনি জানান, এর আগেও আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল কিন্তু কোনো সময় প্রতিবাদ করি নাই।

ভুষনছড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি আবদুর রাজ্জাক জানান, চাল নিয়ে সমস্যার কথাটা আমিও লোক মারফত জানতে পেরেছি। রাঙামাটির রিজার্ভ বাজারের কাদের স্টোর থেকে হাজী রফিকুল ইসলাম চালগুলো কিনে এনেছেন। গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন চালগুলোর ব্যাপারে জানতে চাইলে হাজী রফিক চাল কেনার রশিদ দেখান এবং এগুলো যে ত্রানের চাল না তা গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন নিশ্চিত হন। আবু সাঈদকে ফাসানোর জন্য যারা এই অপপ্রচার চালাইছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক।
৪নং ভুষনছড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মামুন জানান, ‘‘স্থানীয় লোকজন আমাকে বিষয়টা বলার পর আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জোন কমান্ডারসহ প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গকে অবহিত করি। ইউএনও তাৎক্ষনিক চালগুলো জব্দ করার জন্য আমাকে নির্দেশ দেন এবং সোমবার তিনি এসে এর ফায়সালা করবেন বলে জানান। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায় এসব চাল হাজী রফিকুল ইসলাম রাঙামাটি থেকে কিনে এনেছেন। কিন্তু কেউ কেউ ব্যক্তিগত রোষের কারণে হয়ত ইউপি সদস্য আবু সাঈদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এটার সাথে আবু সাঈদ কোনো ভাবেই জড়িত নয়। তাছাড়া মোট ত্রানও তো ৬৩ বস্তা আসেনি।’’
বরকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মনজুরুল হক বলেন, বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান মামুন আমাকে ফোনে জানান। তাৎক্ষনিক চালগুলো জব্দ করার জন্য ইউপি চেয়ারম্যান মামুনকে দায়িত্ব দিই। পরে ফয়সালা করে দিব বলে জানাই। এর মধ্যে বিষয়টি ডিসি স্যারকেও অবহিত করি। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি স্থানীয় ব্যবসায়ী হাজী রফিকুল ইসলাম রাঙামাটি শহরের কাদের স্টোর থেকে চালগুলো কিনেন। এগুলো ত্রানের চাল নয়। তবে আমার উপজেলায় কোনো চেয়ারম্যান-মেম্বার ত্রান নিয়ে অনিয়ম করলে সাথেসাথেই কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান ইউএনও।’’
প্রসঙ্গত,বরকল উপজেলা আওয়ামীলীহে বিবাদমান দুইপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। সর্বশেষ আওয়ামীলীগের প্রায় সবগুলো উপজেলার সম্মেলন হলেও কোন্দলের কারণে সম্মেলন স্থগিত হয় বরকলে। ত্রাণের এই পাল্টাপাল্টি ঘটনাটি দুই পক্ষের রাজনৈতিক বিরোধর জের বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
