রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পৃথক দুটি স্থান থেকে গত শুক্রবার রাতে অপহৃত তিনজনকে মঙ্গলবার দুপুরে মুক্তি দিয়েছে অপহরণকারিা। ‘অস্ত্রের মুখে’ জনপ্রতিনিধি ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ ওই তিনজনকে শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার পৃথক দুটি এলাকা থেকে তাদের অপহরণ করা হয় বলে জানিয়েছিলো বাঘাইছড়ি থানা পুলিশ ও অপহৃতদের স্বজনরা। অপহরণের ঘটনায় থানায় এখনো কোন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রগুলো দাবি করছে,মূলত: সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেই ফিরিয়ে আনা হয়েছে এই তিনজনকে। বাঘাইছড়ি থানা পুলিশও অপহৃতদের মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অপহৃতরা হলেন, উপজেলার বাঘাইছড়ির ইউনিয়নের উগলছড়ি গ্রামের মৃত থাল মানিক চাকমার ছেলে পূর্ণ কিশোর চাকমা (৭০), জীবতলি ইউনিয়নের মৃত চন্দ্রলাল চাকমা ছেলে ও ইউপি সদস্য সদস্য সমীরণ চাকমা (৪৫) এবং উপজেলার মধ্যম বাঘাইছড়ি এলাকার বিপুলেশ্বর চাকমার ছেলে গাড়িচালক মেরিন চাকমা (২৫)। এই অপহরণ ঘটনার জন্য সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে দায়ি করে আসছিলো জনসংহতি সমিতি(এমএনলারমা)।
অপহৃতদের তিনজনের মধ্যে পূর্ণ কিশোর চাকমা বাঘাইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) নেতা জুপিটার চাকমার পিতা। এছাড়া জীবতলি ইউপি সদস্য সমীরণ চাকমার ভাই ও মেরিন চাকমার চাকমা পিতা জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে।
জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) নেতা জুপিটার চাকমা, তার পিতার মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে কি প্রক্রিয়ায় বা কিভাবে তাদের মুক্তি দেয়া হয়েছে সেই সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।
এ প্রসঙ্গে বাঘাইছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম মনজুর আলম জানিয়েছেন, বাঘাইছড়ির তিন এলাকা থেকে তিনজনকে অপহরণের খবর আমরা মৌখিকভাবে জেনেছি। এই ব্যাপারে থানায় লিখিত অভিযোগ জানায়নি। অপহৃতদের মধ্যে প্রাক্তন এক শিক্ষক ও বর্তমান এক ইউপি সদস্য ছিলেন। আজ মঙ্গলবার তাদের মুক্তি দেয়া হয়েছে বলে জেনেছি।’
