জিয়াউল জিয়া ॥
বাংলাদেশ সাফ বিজয়ী নারী ফুটবল দলের গোল পোস্টের অতন্দ্র প্রহরী রূপনা চাকমা। নানিয়ারচরের ভূইয়াদাম গ্রামে যেখানে ছিল জড়াজীর্ণ কুঁড়ে ঘর। সাফ বিজয়ের পর রূপনার জরাজীর্ণ ঘরে ছবি প্রকাশের হলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শুরু হয় নতুন ঘর নির্মাণ।
ঘর নির্মাণ শেষে বৃহস্পতিবার বিকালে রূপনার মায়ের হাতে চাবি হস্তান্তর করেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসক। ঘর পেয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রূপনার মা। চাবি হাতে পয়ে রূপনার মা দরজা খুলে আপন মনে ঘুরে ঘুরে দেখেন ঘরের প্রতিটি কক্ষ। পরে জেলা প্রশাসকসহ সকলে মিলে ঘুরে দেখেন ঘরটি।
নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ের পর গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর ভালোবাসার উপহার নিয়ে রূপনা বাড়িতে যান রাঙামাটির জেলা প্রশাসক। এসময় জেলা প্রশাসক গোলকিপার রুপনা চাকমা চাকমা মায়ের হাতে দেড় লক্ষ টাকা চেক তুলে দেন। নারী ফুটবল দলের গোলরক্ষক রুপনা চাকমার বাড়ি নানিয়ারচরের ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের ভূঁইয়া আদাম গ্রামে।
সেই সময় রূপনা চাকমার জরাজীর্ণ ঘরের ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর ২১ সেপ্টেম্বর নতুন ঘর তৈরি নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ঘর তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করে জেলা প্রশাসন।
এরপর ৩ নভেম্বর নানিয়ারচর উপজেলার তত্ত্বাবধানে জীর্ণ ঘরটি ভেঙ্গে নতুন নকশায় ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করে। দুর্গম এলাকা হওয়ার ঘর নির্মাণ করা ছিল কষ্টসাধ্য। সড়ক ও সেতু না থাকায় কাঁধে করে ছড়া পেরিয়ে নির্মাণ সমাগ্রী নিয়ে তৈরি করা বাড়িটি।
কাজ শুরু হওয়ার সাড়ে তিন মাসের মাথায় গত বৃহস্পতিবার রপনার মা’র হাতে চাবি হস্তান্তর করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন নানিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা সাদিয়া নূরীয়া, উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: নূয়েন খীসা, জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
চাবি হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে দুর্গম ভূইয়াদাম গ্রামে ভিড় করে এলাকাবাসী। খুশির এই দিনে উপস্থিত সকলকে মিষ্টিমুখ করান রূপনার স্বজনরা। দ্রুত সময়ে ঘর করে দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান রূপনার মা ও এলাকাবাসী।
ভূইয়াদাম গ্রামের বাসিন্দা শশী মোহন চাকমা বলেন, আগে রূপনার বাড়িটে খুবই ভাঙ্গা ছিলো। সাফ বিজীয় হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নতুন ঘর নির্মাণ করে দেয়ার নির্দেশ দেয়। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘরটি নির্মাণ হয়ে গেছে। এখন আর রূপনার মাকে ভাঙ্গা ঘরে থাকতে হবে না। প্রতিবেশী হিসেবে আমরা খুশি এবং প্রধানমন্ত্রীকেও ধন্যবাদ জানাই।
রূপনা চাকমার প্রতিবেশি সুরবালা চাকমা বলেন, আগে বর্ষার সময় ওনাদের খুব কষ্ট হতো। এবার আর তা হবে না। রূপনার অর্জনকে সম্মান জানিয়ে সরকার নতুন বাড়ির সাথে বিদ্যুৎ সংযোগ, টিভি-ডিস সংযোগসহ নানা সহায়তা দিয়েছে। ওর জন্য এলাকাবাসী হিসেবে আমরাও গর্বিত।
রূপনার মা কাল সোনা চাকমা বলেন আগে ভাঙ্গা ঘরে থাকতাম, এখন নতুন ও সুন্দর ঘর পেয়েছি। আমি অনেক খুশি। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি আমাকে এই ঘরটি দিয়েছে।
নানিয়চার উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পাবার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে নকশার কাজ শেষ করি। পরে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় সাড়ে তিন মাসের মধ্যে কাজের গুণগত মান ঠিক রেখে ঘর নির্মাণ কাজ শেষ হয়। এই ঘরটিতে রয়েছে ৩টি বেড় রুম, একটি করে ড্রয়িং, ডাইনিং, কিচেন এবং বাথরুম। ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় সেমিপাকা ঘরটি।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা ঘরের কাজটি শুরু করি। এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় কাজটি সহজ ছিলো না। সকল প্রতিবন্ধকতা জয় করে কাজটি শেষ করে আজ রূপনার মায়ের হাতে চাবি হস্তান্তর করি। পরে প্রধানমন্ত্রী এটি উদ্বোধন করবেন। এমন মহৎ কাজের সাথে থাকতে পেরে আমি আনন্দিত।
