মুফিজুর রহমান, নাইক্ষ্যংছড়ি
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও স্বাধীনতাকামী আরাকান আর্মির মাঝে গত দুই সপ্তাহ ধরে চলছে তুমুল যুদ্ধ। সীমান্তে যুদ্ধ বিমান ও ফাইটার হেলিকপ্টার থেকে ছোড়া গুলির শব্দে প্রকম্পিত হচ্ছে নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু, বাইশাফাড়ি, রেজু গর্জনবনিয়া, আমতলি সহ পুরো সীমান্ত এলাকা। তুমব্রু সীমান্তে মিয়ানমারের এমন কর্মকান্ডে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা সহ নো ম্যান্স ল্যান্ডে আশ্রিত সাড়ে চার হাজার রোহিঙ্গা।
ঘুমধুমের তুমব্রু সীমান্তে বন্ধ নেই মিয়ানমার সেনাবাহিনীর যুদ্ধ বিমান ও ফাইটার হেলিকপ্টারের বিচরণ। সর্বশেষ শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আবারো বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মিয়ানমারের ২টি যুদ্ধ বিমান থেকে ছোড়া হয়েছে ২টি গোলা এবং সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় হেলিকপ্টার থেকে অসংখ্য গুলিবর্ষন করা হয়। ঘুমধুম ইউপি’র ৮নং ওয়ার্ড রেজু আমতলী বিজিবি বিওপি আওতাধীন সীমান্ত পিলার ৪০-৪১ এর মাঝামাঝি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সে সময় তাদের যুদ্ধবিমান থেকে প্রায় ৮ থেকে ১০টি গোলা ছোড়া হয়। এ ছাড়া হেলিকপ্টার থেকেও আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫টি গুলি করতে দেখা যায়। এ সময় সীমান্ত পিলার ৪০ বরাবর আনুমানিক ১২০ মিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া দুটি গোলা পড়ে। এতে কোন প্রকার হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও আতংক কমেনি সাধারন মানুষের মাঝে। গত ২৮ আগষ্ট বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মিয়ানমারের দুইটি মর্টারশেল নিক্ষেপের ঘটনার পর বাংলাদেশ থেকে প্রতিবাদ জানানো হলেও মানছে না মিয়ানমার। সাধারন মানুষের প্রশ্ন আসলে মিয়ানমার কি চাই। আতংকগ্রস্থ সাধারন মানুষ সরকারের হস্থক্ষেপ কামনা করেছেন।
সুত্রে জানা যায়, চলমান বিদ্রোহী দমনের নামে কৌশলে রোহিঙ্গাদের আরাকান রাজ্য থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে মিয়ানমার। ইতোমধ্যে বুচিদং এলাকার একাধিক গ্রামে রোহিঙ্গাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ সহ নতুন করে বাড়ীঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে। এতে করে আবার বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ঢলের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে, ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু বাজার থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরত্বে মিয়ানমারের পাহাড়ী “খামংসেক” অঞ্চল। ওই এলাকায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির মাঝে গত দুই সপ্তাহ ধরে চলছে তুমুল লড়াই। প্রতিদিন বাড়ছে লড়াইয়ের তীব্রতা। ব্যবহার হচ্ছে ভারী অস্ত্র, যুদ্ধ বিমান ও ফাইটার হেলিকপ্টার। ওপারের গুলি আর গোলার বিকট শব্দে আতংকে দিন কাটছে এপারের বাসিন্দারা। হেলিকপ্টার থেকে স্বাধীনতাকামী আরাকান আর্মির লক্ষ্যবস্তুতে ছোড়া হচ্ছে অসংখ্য গুলি ও বোমা। 
তুমব্রু বাজারের ব্যবসায়ী ফখরুদ্দিন জানান, সীমান্ত লাগোয়া মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলি অব্যাহত রয়েছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে সীমান্তে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর যুদ্ধ বিমান ও ফাইটার হেলিকপ্টার টহল দিতে দেখা যায়। সীমান্ত লাগোয়া তুমব্রু বাজার দোকানে বসে বিমান ও গুলির আওয়াজে আতংকিত থাকি সবসময়।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ২৮ আগষ্ট অবিষ্ফোরিত মর্টার শেল নিক্ষেপের বিষয়টি দৃশ্যমান হওয়ার পর সবর্ত্র তোলপাড় সৃষ্টি হলে প্রশাসন নড়েচড়ে বসে এবং রাষ্ট্রিয়ভাবে প্রতিবাদ করে। যার কারণে তারা ভাবছিলো মিয়ানমার বাহিনী গোলাগুলি বন্ধ করে দিবে। কিন্তু মিয়ানমার বাহিনী তা কর্ণপাত না করে শনিবারও সীমান্তে মর্টার শেল নিক্ষেপ করে।
ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গির আজিজ বলেন, বাইশফাড়ি, তুমব্রু, রেজু গর্জনবনিয়া, আমতলি সহ সীমান্ত এলাকা জুড়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গুলিবর্ষন অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ ৩ সেপ্টেম্বর শনিবার সকালে মিয়ানমারের দুটি যুদ্ধ বিমান বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে ছোড়া হয়েছে দুটি বোমা। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট গোলাগুলির এ সব ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে নতুন করে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।
বান্দরবানের পুলিশ সুপার (এসপি) তারিকুল ইসলাম তারিক গনমাধ্যমে জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থায় আছে এবং সেখানে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
বিজিবি সুত্র জানায়, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘাতের ওপরে নজর রাখা হচ্ছে। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।
