প্রেস ইন্সটিটিউট উদ্যোগে ও রাঙামাটি প্রেসক্লাবের ব্যবস্থায় রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত সাংবাদিকদের একটি কর্মশালায় ‘অনিয়ম’ ও ‘অসাংবাদিক’দের সুযোগ করে দেয়ার প্রতিবাদে দীপ্ত টেলিভিশনের রাঙামাটি প্রতিনিধি ও দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রামের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার সৈকত রঞ্জন চৌধুরী কর্মশালা ত্যাগ করেছিলেন লিখিত অভিযোগ জানিয়ে। সেই প্রতিবাদ নিয়েই সংবাদ পরিবেশন করেছিলো একটি প্রভাবশালী স্থানীয় পত্রিকা ও দুইটি স্থানীয় অনলাইন।
অভিযোগ হাতে পেয়ে সংবাদটি প্রকাশের পর একটি অনলাইনের সম্পাদক ও রাঙামাটি রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারন সম্পাদক ফজলুর রহমান রাজনকে ফোন করে ‘অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল ও হুমকি’ প্রদান করেছেন রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক পূর্বকোনের সাংবাদিক সাখাওয়াত হোসেন রুবেল, এমন অভিযোগ করেছেন রাজন। সোমবার রাতে হুমকি প্রদানের অভিযোগ এনে নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই ফোন কলটি প্রকাশ করেন রাজন। পরদিন মঙ্গলবার রাঙামাটির কোতয়ালি থানায় একটি সাধারন ডায়রিও করেন তিনি। সাধারন ডায়রিতে তিনি রুবেলের বিরুদ্ধে হুমকি প্রদান ও গালাগালের অভিযোগ এনে নিরাপত্তা চান পুলিশের।
এরপরই নড়েচড়ে বসেন প্রেসক্লাবের সভাপতি। মঙ্গলবার লংগদু উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন শেষ করে সরাসরি তিনি রাঙামাটির প্রগতিশীল সাংবাদিকদের আড্ডাস্থল আইভি ফুডস-এ আসেন এবং আগের দিন দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পাদক ফজলে এলাহী,সিনিয়র রিপোর্টার সৈকত রঞ্জন চৌধুরী সম্পর্কে করা বক্তব্যের জন্য দু:খ প্রকাশ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে এইরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবেনা বলেও প্রতিশ্রুতি দেন এবং রাঙামাটি রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারন সম্পাদক ফজলুর রহমানকে হুমকি দেয়া ও গালাগাল করার ঘটনায় দু:খ ও ক্ষমা প্রার্থনা করে জানান, ‘রাগের মাথায় তিনি এসব বলেছেন’। তিনি রাজনের জন্য পুরো ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়ে, নিজের লজ্জিত হওয়ার বিষয়টি জানান। তিনি ভবিষ্যতে এই ধরণের কোন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবেনা বলেও আশ্বস্থ করেন। এই সময় রাঙামাটির প্রবীন সাংবাদিক সুনীল কান্তি দে,সিনিয়র সাংবাদিক এসএম শামসুল আলম,চ্যানেল আই প্রতিনিধি মনসুর আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
পরে সাংবাদিকদের একটি অংশ বিকেলে রাঙামাটির বনরূপার দারুচিনি রেস্তোরায় একটি আড্ডায় বসে এইসব ঘটনার পুনরাবৃত্তিরোধে সবাই একযোগে কাজ করার উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং নিজেদের সহযোগিতার কথা জানান। এসময় সাখাওয়াত হোসেন রুবেল জানান, যতটা না নিজের পছন্দে,তারচে বেশি কিছু সিনিয়র সাংবাদিকের পরামর্শেই তাকে সাংবাদিক বাছাই করতে হয়েছে,যা তার জন্যও অস্বস্তিকর ছিলো। ভবিষ্যতে পেশাদার সাংবাদিক ও প্রকৃত সংবাদকর্মী ছাড়া কাউকে আর এমন সুযোগ দেয়া হবেনা বলেও আশ্বস্ত করেন এই সিনিয়র সাংবাদিক। এর মাধ্যমে ২৪ ঘন্টার সাংবাদিকদের মধ্যকার বিরোধের সুরাহা হয়।
এসময় রাঙামাটি প্রেসক্লাব সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন রুবেল বলেন, ‘আমি আসলে অভ্যাসবশত গালিয়ে দিয়ে ফেলেছি আর রাগের মাথায় কিছু কথা বলেছি,যা উচিত হয়নি। পরে আমি নিজেই আমার ভুল বুঝতে পেরেছি বলেই নিজেই সবার সাথে দেখা করে দু:খ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেছি। কারণ যাদের নিয়ে ঘটনা তারা সবাই আমার খুব প্রিয় এবং আস্থাভাজন। আসলে রাগ নিয়ন্ত্রন করতে না পারায় একটি ছোট্ট ঘটনা বড় আকার ধারণ করেছে।’
এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে রুবেল এর অডিওটি সরিয়ে নিয়ে সাংবাদিক ফজলুর রহমান রাজন লিখেন, ‘রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন রুবেল ভাই তার ভুল বুঝতে পেরে দু:খপ্রকাশ ও ক্ষমা চেয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে সিনিয়র সাংবাদিক সুনীল দা, শামসু ভাই, ফজলে এলাহীসহ আমরা একটি বৈঠকে বসেছিলাম। রুবেল ভাই দু:খ প্রকাশ করায় সবার অনুরোধে আমার ফেসবুক ওয়াল থেকে উনার অডিও টি হাইড করলাম। রুবেল ভাইয়ের আচরনের ব্যাপারে যারা লাইক, কমেন্ট এবং ফোন করে অ-ভয় দিয়ে সাহস যুগিয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’
ফজলুর রহমান রাজনের এই স্ট্যাটাসের নীচে রাঙামাটি,খাগড়াছড়ি, বান্দরবান,কক্সবাজার,চট্টগ্রামসহ বিভিন্নস্থানে কর্মরত বেশ কয়েকজন সাংবাদিক নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পুরো বিষয়টি সুন্দরভাবে সুরাহা হওয়ায় রাঙামাটির সাংবাদিকদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তারা কেউ কেউ বলেছেন, ‘ রাঙামাটির সব সাংবাদিক একটা প্লাটফর্মে চলে আসুক সব বিভেদ ভুলে,সবার জন্য শুভ কামনা।’
