দেড় দশক পূর্বে ১ একর ২০ শতক জমি বন্ধক নিয়ে ক্ষুদ্র পরিসরে বিভিন্ন প্রজাতির গাছগাছালি নিয়ে নার্সারি শুরু করেন তিনি। বর্তমানে তার নার্সারিতে বিভিন্ন জাতের লাখের উপরে চারা রয়েছে। বৃক্ষই যেন তার জীবন। এই বৃক্ষই পরিবর্তন ঘটিয়েছে ভাগ্যের। চারা গুলোকে নিজ সন্তানের মত লালন-পালন করে হয়েছেন লাখপতিও। বলছিলাম পার্বত্য বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার রাবার শিল্প নগরী হিসেবে খ্যাত পাহাড়ী জনপদ বাইশারী ইউনিয়নের তুফান আলী পাড়ার বাসিন্দা বৃক্ষপ্রেমী নুরুল আলমের কথা।
শুক্রবার সরেজমিনে নার্সারিতে গিয়ে দেখা যায়, নার্সারীতে রয়েছে বিভিন্ন রকম ফলজ, বনজ জাতের চারা। এ সময় বৃক্ষপ্রেমী নুরুল আলম বলেন, তার নার্সারিতে ফলজ চারার মধ্যে রয়েছে আম, জাম, কাঠাল, জাম্বুরা, লেবু, মালটা এবং বনজের মধ্যে রয়েছে আকাশ মনি, ছোট, বড়, মাঝারি সহ তিন প্রকার জাতের, আরও রয়েছে গর্জন, কড়ই, মেহগনি অর্জন সহ নানা জাতের চারা।
তিনি জানান, ছোটবেলা থেকে নার্সারী করার অভিজ্ঞতা থেকে সব কিছু নিজের বিবেক বুদ্ধি খাটিয়ে এই বিশাল নার্সারি করেছেন তিনি। এতে তিনি এখন সফলতার মুখ দেখেছেন। সংসারে তার এখন আর অভাব নাই। দশ জনের মত তিনিও ভাল ভাবে চলছেন। সংসারে ছেলে-মেয়ে-স্ত্রী নিয়ে ৫ জনের ছোট সংসার। নিজে লেখা পড়া অল্প করলেও ছেলে মেয়েদের উচ্চ শিক্ষিত করার ইচ্ছা রয়েছে তার।
বৃক্ষ প্রেমী নুরুল আলম আরো জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবছর ও ফলজ, বনজ মিলে লক্ষাধিক চারার নার্সারি করেছে। সর্বমোট মজুরী সহ খরচ হয়েছে ৩ লাখ টাকার মত। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এ বছর চারা বিক্রি করে ৫ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব হবে। তবে তিনি আপসোস করে বলেন- দেড় দশক ধরে নার্সারী করলেও সরকারী ভাবে কোন ধরনের সহযোগিতা পাননি। সব কিছু স্থানীয় বাজার থেকে সার, কিট নাশক ক্রয় করে আমি নিজেই প্রয়োগ করি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু তাহের জানান, নুরুল আলমের নার্সারি থেকে ভালো জাতের চারা ক্রয় করে সফল হয়েছি। ৩ বছরেই ফলন ধরা শুরু হয়েছে। বৃক্ষপ্রেমী নুরুল আলম নার্সারি করার পাশাপাশি পানের বরজ, কলা বাগানও করে থাকেন। সব কিছু মিলিয়ে সে একজন সফল মানুষ বলা চলে। তাকে অনুসরন করে এখন এলাকায় নার্সারী করার খায়েশ হয়েছে অনেকের।
এ বিষয়ে বাইশারীর দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি অফিসার মোঃ রফিকুল আলম বলেন, বৃক্ষপ্রেমী নুরুল আলমের নার্সারি পরিদর্শন করা হয়েছে। আগামীতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা সহ সুযোগ সুবিধার আওতায় আনা হবে।
Previous Articleআগুনে পুড়লো রোয়াংছড়ি বাজারের দেড়শ দোকান
Next Article ‘আলোর পথে লংগদু’র পথচলা শুরু
