রাঙামাটিতে কাঁঠালের বিপুল সমাগম হলেও অতিরিক্ত গরমের কারণে তেমন বিক্রি নেই। গ্রীষ্মের শুরু থেকে তাপদাহের কারণে এবার কাঁঠালের তেমন বিকিকিনি নেই। বাজারে যেসব কাঁঠাল আনা হচ্ছে তারও দাম নেই বলে জানালেন বিক্রেতা। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন চাষিরা। তবে টানা বৃষ্টি শুরু হলে এর চাহিদা কয়েকগুণ বাড়বে বলে ধারণা চাষি ও ব্যবসায়ীদের।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর জেলায় ৪১৮২ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের আবাদ হয়। গতবছর ১ লক্ষ ১০ হাজার মেট্রিক টন কাঁঠাল উৎপাদন হলেও এবার ১ লক্ষ ২০ হাজার মেট্রিন টন কাঁঠাল উৎপাদনের লক্ষামাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
জ্যৈষ্ঠের শুরু থেকে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে রাঙামাটি বাজারে আসতে শুরু করে কাঁঠাল। প্রতিদিনই কাপ্তাই হ্রদের বুক চিরে শহরের ফলবাজার খ্যাত সমতা ঘাটে ভিড়তে থাকে ফলবাহী ইঞ্জিন নৌকা। ভাসমান নৌকাতেই বিকিকিনি হয় এসব মৌসুম ফল। কৃষকরা কাঁঠাল নিয়ে ঘাটে ভেড়ানোর পর পাইকারি ব্যবসায়ীদের হাত ধরে এসব ফল চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।
খুচরা ব্যবসায়ীরা আব্দুল সামাদ ও চিত্র রঞ্জন চাকমা জানান, গ্রীষ্মের তাপদাহের কারণে কাঁঠালের ক্রেতা খুবই কম। গরমে দ্রুত কাঁঠাল পেকে যাচ্ছে। মানুষ খাচ্ছেও কম। গরমের কারনে পাইকারী ক্রেতাও কম তাই কাঁঠামের দাম কম। তবে বৃষ্টি শুরু হলে কাঁঠালের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা চাষিদের।
পাইকারী ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক ও আলমগীর হোসেন বলেন, ‘গরমের কারণে শহরে কাঁঠালের চাহিদা কিছুটা কম এবং পরিবহনের সময় অনেক কাঁঠাল পেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে একটি কাঁঠাল ঘাটে ২০ টাকা কেনা পড়লেও পরিবহন ফি বাবাদ অন্যান্য ফিতে সেই কাঁঠালের দাম ৫০ টাকা পরে। সেই কাঁঠাল যদি ৭০-৮০ টাকা বিক্রি করতে না পারি তাহলে আমাদের লোকসান হয়।’
রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক পবন কুমার চাকমা বলেন, রাঙামাটির কাঁঠালের স্বাদ অনেক বেশি এবং তাপমাত্রার বেশির কারণে লোকজন কাঁঠাল খেতে চায় না। তাড়াতাড়ি কাঁঠাল পেকে যাচ্ছে। তবে বৃষ্টি হলে কাঁঠালের চাহিদা বাড়বে। তিনি আরো বলেন, প্রকৃতিগত কারণে এখানকার কাঁঠাল বেশ মিষ্টি।
