নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সরগরম হয়ে উঠেছিল জেলা বিএনপি’র কার্যালয়। প্রতিদিনই শত শত নেতাকর্মীর পদভারে মুখর থাকতো দলীয় অফিসের ভিতরে-বাইরে। তফসিল ঘোষণার পর কে পাচ্ছেন ধানের শীষের টিকেট; তা’ই নিয়েই চলতো জল্পনা-কল্পনা। দীপেন দেওয়ান, কর্নেল(অবঃ) মনীষ দেওয়ান ও মনি স্বপন দেওয়ানকে ঘিরে চলতো আলোচনা-সমালোচনা। জেলা বিএনপি’র একটি অংশ দীপেন-মনীষকে নিয়ে জোর লবিংও শুরু করেন দলীয় মনোনয়ন পেতে। মনীষ দেওয়ানের মনোনয়ন নিয়ে খুব বেশি সিরিয়াস না থাকলেও দীপেন দেওয়ানের পক্ষে আটঘাট বেঁধে নামে দলটির নবীন-প্রবীণ নেতাদের একটি অংশ। তারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ঢাকাতেও অবস্থান করেন। কিন্তু তারেক জিয়ার ফোন পেয়ে যখনই মনি স্বপন দেওয়ান দলের পক্ষে মনোনয়ন সংগ্রহ করেন তখন জেলার শীর্ষ নেতারা তার পক্ষেই অবস্থান নেন। দীপেন-মনি স্বপনের পক্ষে-বিপক্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে চলতে থাকে আলোচনা। তৃণমুলের দাবি-দলের টিকেট যাকেই দেয়া হোক না কেনো; প্রার্থীকে জেতাতে মরিয়া হয়েই কাজ করবেন তারা। মোট কথা নির্বাচন নিয়ে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দেয়। আর তাইতো প্রতিদিন শত শত মোটরবাইকের বহর দেখা মিলতো শহরের কাঠালতলীস্থ জেলা বিএনপি’র কার্যালয়ের সামনে।
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে যখন মনি স্বপনকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয় তখন সব বিভেদ ভুলে অল্প সময়েই বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা একযোগে নির্বাচনের জন্য একাট্টা হতে থাকে। প্রচারণায়ও দেখা মিলে তাদের বিশাল বহর। সারাদিন দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণার পর দিন শেষে ভিড় করে দলীয় কার্যালয়ে। কেউ কার্যালয়ের ভিতরে, কেউ বারান্দায়, কেউ বা ছাদে খন্ড খন্ডভাবে বসে বা দাঁড়িয়েই ভোটের নানা হিসেব-নিকেষ কষতো। কার্যালয়ের প্রাঙ্গণেও ছিল নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি। কেউ কেউ আবার আশপাশের চায়ের দোকানেও নির্বাচনী আড্ডায় মত্ত থাকতো। অর্থাৎ পড়ন্ত বিকেল থেকে মধ্যরাত অব্দি জেলা কার্যালয়টি মূলত তাদের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সরগরম থাকতো।
কিন্তু হঠাৎই গত দু’দিন ধরে জেলা বিএনপি’র কার্যালয়ে শুনসান নীরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নেই কর্মীদের উপস্থিতি কিংবা মোটরবাইকেরও বহর। কার্যালয়ের নিচ তলায় কিছু দাঙ্গা পুলিশের উপস্থিতি।
হঠাৎ কেনো নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিল, এমন প্রশ্নের জবাবে নেতাকর্মীদের একটিই উত্তর হামলা-মামলার ভয়ে তারা অনেকটা কৌশলেই অবস্থান নিয়েছে। কখন না জানি কাকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ।
জেলা ছাত্রদল সভাপতি ফারুক আহমেদ সাব্বির বলেন, গত দুইদিন দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি কম ছিল ঠিক। কিন্তু এখন আবারো আসতে শুরু করেছে। জেলা বিএনপি’র নির্দেশনা আছে-কার্যালয়ে না এসে নিজ নিজ এলাকায় কাজ করার। তা ছাড়া সময়ও কম, তাই ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন নেতাকর্মীরা।
জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোঃ নাজিম উদ্দিন বলেন, কৌশলগত কারণে নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে যাচ্ছেন না। তবে এলাকায় এলাকায় কাজ করছে তারা। দলীয় প্রার্থীকে জেতাতে সবাই একাট্টা হয়ে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।
জেলা বিএনপি’র সভাপতি হাজী মোঃ শাহ আলম বলেন, অফিসিয়াল কাজ যারা করবে তারা ছাড়া কার্যালয়ে অন্য কাউকে আসতে নিষেধ করা হয়েছে কারণ কার্যালয়ে এসে অহেতুক আড্ডা না দিয়ে এলাকায় এলাকায় গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যেহেতু এখন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে অফিস করা হয়েছে সেহেতু সেখান থেকেই নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। গ্রেফতার ও মামলার ভয়ে নাকি অফিসে আসছে না এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা সভাপতি বলেন, হামলা-মামলাকে তোয়াক্কাই করছে না নেতাকর্মীরা। ‘ডু অর ডাই’ নীতিতেই চলছে কার্যক্রম। যা হবার তা’ই হবে।
