একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা জমে উঠেছে পার্বত্য জনপদ রাঙামাটিতে, একে অপরকে কণ্ঠবাণে ঘায়েল করছেন নেতারা। এ যেন বাংলার নির্বাচনী প্রচারণার চিরচেনা রূপ, আর এই রূপকে উপভোগ করছেন পার্বত্যবাসিও।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র প্রথম নির্বাচনী সমাবেশ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাঙামাটি সদরের তবলছড়ি বাজারে অনুষ্ঠিত হয়।
বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপচে পড়া উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে রাঙামাটি জেলা বিএনপি সভাপতি হাজি মোঃ শাহ আলম বলেছেন, আমাদের দলে কে কত বছর পরে এলো, সেটা নিয়ে আমাদের মাথা ব্যথা নেই, ঘুম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ওনাদের (আওয়ামীলীগের)। আমরা শুনতে পাই ওনারা কান পড়া দেন-‘কেনো মনি স্বপনকে দলে আনা হলো, তিনিতো বারো বছর দলে ছিলেন না। কি দরকার ছিল ওনাকে আনার, দলে কি আর কোন নেতা ছিলনা ?’
আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে শাহআলম বলেন,আমরা খেলতে নেমেছি, খেলোয়াড় আফ্রিকা নাকি উগান্ডা থেকে হায়ার করবো সেটা আমাদের ব্যাপার, খেলায় জেতাই মূল কথা। আমরা জিততে নেমেছি। আমার মনে হয় খেলোয়াড় বেশি শক্তিশালী হয়ে গেছে, তাই তাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। আপনারা আপনাদের কথা ভাবুন আমাদের নিয়ে অযথা সময় ব্যয় করবেননা, পরে পস্তাবেন।’
তিনি আরও বলেন দুই মেয়াদ আগের মেয়র হাবিবুর রহমান আমাকে নিয়ে মন্তব্য করেছেন আমি না কি কালা চাকমা, কারো ঘরের মানুষ। ভাই আমাকে নিয়ে কিছু বলার আগে নিজের কথা ভাবুন একবার, এই রাঙামাটির মানুষ আপনাকে কি সম্মান দিয়েছে। ছিলেনতো বিদ্যুতের খাম্বার মিস্ত্রী, সেখান থেকে আপনাকে পৌরসভার মেয়র বানিয়েছে , তারপরওতো গাট্টি রেডি করে রেখেছেন, যে কোন সময় যাতে গাড়িতে উঠতে পারেন। আপনার গায়ের চামড়া দিয়ে রাঙামাটিবাসীকে পাদুকা বানিয়ে দিলেও ঋন শোধ হবে না। অথচ আপনি খাটের নিচে খাটিয়াও রেখে দিয়েছেন, কিছু হলে যাতে দেহটা নিয়ে যায়। আপনাদের মুখে এগুলো মানায় না, আমি মরলে এখানকার গোরস্থানে আমার কবর হবে। ’
শাহ আলম আরও বলেন আপনারা প্রচার করছেন মনি স্বপন জেএসএস’র প্রার্থী, আমিও বলছি তিনি জেএসএস-জামায়াত-বিএনপি-আওয়ামীলীগ তথা রাঙামাটির আপামর জনতার প্রার্থী। জয় আমাদেরই হবে।’
এর আগে গত সোমবার রাঙামাটি জেলা বিএনপি কার্যালয়ে মনিস্বপন দেওয়াসেনর প্রেস ব্রিফিংয়েও বেশ কড়া ভাষায় বক্তব্য রাখেন রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ শাহ আলম,যিনি ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সাথেই জড়িত এবং ছাত্রদল সভাপতি,পৌর বিএনপির সভাপতি,জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সর্বশেষ দলীয় কাউন্সিলের দলের কেন্দ্রীয় নেতা দীপেন দেওয়ানকে পরাজিত করেই সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।
