‘হেলপিং চিলড্রেন গ্রোয়িং এ্যাজ এ্যাকটিভ সিটিজেন’ প্রকল্পের আওতায় খাগড়াছড়ি সদর উপজেলাধীন পেরাছড়া ইউনিয়ন এলাকার শিশু সংগঠন ‘ন্যাশনাল চিলড্রেনস টাস্কফোর্স (এনসিটিএফ)’র আয়োজনে পার্বত্য অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নানা রকম সমস্যা আর শিশু অধিকার বাস্তবায়ন সম্পর্কিত জবাবদিহিতা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
দাতা সংস্থা প্লান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাবারাং কল্যাণ সমিতির সহযোগিতায় পল্টনজয় পাড়া এনসিটিএফ কর্তৃক আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো: শহিদুল ইসলাম। পল্টনজয় পাড়া এনসিটিএফ সভাপতি স্কুল শিক্ষার্থী রৌদ্র ত্রিপুরার সভাপতিত্বে ও সহ-সভাপতি ছাত্রী জবা ত্রিপুরা আর নুসরাত জাহান জুঁই-এর সঞ্চালনায় এতে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কাজী মো. চাহেল তস্তরী, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খান মো: নাজমুস শোয়েব, সহকারী পুলিশ সুপার (ডিএসবি) খন্দকার গোলাম শাহনেওয়াজ ও আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারী প্রমুখ।
অধিবেশনের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, জাবারাং সংস্থার কর্মসূচি সমন্বয়কারী বিনোদন ত্রিপুরা। স্বাগত বক্তব্য শেষে উপস্থাপক জবা ত্রিপুরা পর্যায়ক্রমে এনসিটিএফ সদস্যদেরকে নিজেদের সুনির্দিষ্ট ও বাস্তব সমস্যা নিয়ে তুলে ধরার আহবান জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত সমস্যাসমূহ নিয়ে পরামর্শমূলক, জবাবদিহিতামূলক আলোচনায় অংশ নেন জাবারাং নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাব সভাপতি জীতেন বড়–য়া, মৌজা প্রধান হেডম্যান নিবুল লাল রোয়াজা, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা উষানু চৌধুরী, পেরাছড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্রীলা তালুকদার, সহকারি পুলিশ সুপার (ডিএসবি) খন্দকার গোলাম শাহনেওয়াজ, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার খান মো: নাজমুস শোয়েব ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কাজী মো. চাহেল তস্তরী।
এতে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মো: শহিদুল ইসলাম বলেন, ইভটিজিং নিয়ে প্রশাসন অধিক সচেতন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের কাছে এই বিষয়টি জিরো টলারেন্স। স্কুলে কোন ছাত্রীর হঠাৎ সমস্যা হলে যাতে উপকরণ সহজপ্রাপ্য হয় সে দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে প্রধান অতিথি প্রথমে একটি স্কুলে জেলা প্রশাসকের পক্ষ হতে উপকরণ সরবরাহের পদক্ষেপ নেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। জেলা সদরের সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় দিয়ে শুরু করবেন বলেও তিনি মত ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নিজ উপজেলায় উদ্যোগ গ্রহনেরও অনুরোধ করেন।
অধিবেশনের পুরো সময় শিশুদের সমস্যা ও দাবি গুরুত্ব দিয়ে শোনার জন্য এবং তা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দানের জন্য উপস্থিত অতিথিবৃন্দ ও প্রধান অতিথিকে ধন্যবাদ জানান অধিবেশনের সভাপতি রৌদ্র ত্রিপুরা। এরপর অতিথিবৃন্দের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের অনুরোধ জানিয়ে সভা সমাপ্তি ঘোষণা করেন। (বিজ্ঞপ্তি)
