খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ॥
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় হাসান আলী(৫৬)নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা করে সেফটিক ট্যাংকে লাশ গুম করার ঘটনায় রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। রবিবার বেলা ১২টার দিকে ঘটনার বিস্তারিত তুলে প্রেস ব্রিফিং করেন পুলিশ সুপকর আবদুল আজিজ।
তিনি বলেন, নিহত হাসান আলীর মেয়ের জামাই কামরুল ক্ষোভ থেকে এবং অন্যদের প্ররোচনায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে শ্বশুর হাসান আলীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এর আগে শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে খাবারের সাথে চেতনানাশক দিয়ে অজ্ঞান করেন। রাতে অন্যদের সহায়তায় বাড়ির পাশে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখেন।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যে কামরুলসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অপর দুইজন হলেন সিরাজুল ইসলাম ও মো. আশরাফুল। কামরুল ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে। বাকি দুইজন পুলিশের রিমান্ডে রয়েছে। ঘটনার পর নিহতের ছেলে মোঃ ইউনুছ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
প্রেস ব্রিফিং এ পুলিশ সুপার জানান, বিয়ের পর পারিবারিক কলহে স্ত্রীর সাথে কামরুলের প্রায় ঝগড়া হতো। এই ঘটনায় শ্বশুর হাসান আলী কামরুলের বিরুদ্ধে মামলা দায়েন করেন। এই ঘটনায় কামরুল ক্ষুব্ধ ছিল। এছাড়া মাটিরাঙ্গার তবলছড়িতে মাছের ঘেরসহ বিভিন্ন কারণে স্থানীয় বেশকজন ব্যক্তি হাসান আলীর প্রতি ক্ষুদ্ধ ছিলেন।
সবশেষ মেয়ের জামাইকে দিয়ে হাসান আলীকে শায়েস্তা করার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে কামরুলকে ৫০হাজার টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দেয় তারা।
পরিকল্পনামাফিক ১১ আগস্ট বিকালে মাটিরাঙ্গার তবলছড়িতে শ্বশুরবাড়ি আসেন কামরুল। রাতে খাবারের সাথে চেতনানাশক খাইয়ে সবাইকে অচেতন করেন। পরে রাত ১২টার দিকে অন্যদের সহায়তায় ঘর থেকে তুলে নিয়ে বাড়ির পাশে গলায় রশি পেঁচিয়ে হত্যা করে সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখে। পরে পুলিশ তদন্ত করে মরদেহ উদ্ধার করে। তিনজনকে আটক করে।
এই ঘটনায় অন্যদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
এসময় মাটিরাঙ্গা থানার ওসি মোঃ আলী, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উদয় পালসহ অন্যান্য কর্মকর্তা, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
