মুফিজুর রহমান, নাইক্ষ্যংছড়ি
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুমের তুমব্রু গ্রামে আশ্রয় নেওয়া জিরো পয়েন্টের রোহিঙ্গারা কৌশলে সূর্যপাড়া, মগপাড়া, বাইশফাড়ি, উত্তর ঘুমধুম সহ অন্যান্য পথ ব্যবহার করে দেশের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে পড়ছে। এসব রোহিঙ্গাদের সম্ভ্যাব্য গন্তব্য পার্বত্য বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সদর, বাইশারী এবং কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলা এবং ইউনিয়ন।
সুত্র জানায়, গত ১৮ জানুয়ারী নো ম্যান্স ল্যান্ডে সংঘটিত ঘটনার পর অন্তত ১ হাজার রোহিঙ্গা তুমব্রু ছেড়ে অন্যত্র পালিয়েছে। এসব রোহিঙ্গারা পার্বত্য নাইক্ষ্যংছড়ি, রামু হয়ে লামা আলীকদমের দিকে পাড়ি জমাচ্ছে বলেও জানা গেছে।
তুমব্রু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম বলেন, বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তুমব্রু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় দেখা গেছে হাজারো রোহিঙ্গা ত্রিপলের ছাউনির নিচে বসবাস করছেন।
ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গির আজিজ বলেন, ত্রিপলের তাবুতে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। তারা কৌশলে পাশর্^বর্তী গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। অচিরেই এ সব ঠেকানো দরকার।
সূত্র জানায়, গত ১৮ জানুয়ারি জিরো পয়েন্টের রোহিঙ্গা শিবিরে মিয়ানমারের সশস্ত্রগোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা) কর্তৃক ২৭ নেতাকর্মী হত্যার প্রতিশোধ নিতে মিয়ানমারের আরেকটি সশস্ত্রগোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) কমান্ডোরা অভিযানে নামলে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে অনেকেই হতাহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর জিরো পয়েন্টে থাকা রোহিঙ্গাদের ৬০০টির বেশি ঘর আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। আগুনে নিঃস্ব হয়ে চার হাজার ২শ রোহিঙ্গা বাংলাদেশ ভূখন্ডে তুমব্রু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ ও আশপাশের এলাকায় আশ্রয় নেয়।
গত বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখানে রয়েছে প্রায় ২২শ এর মতো রোহিঙ্গার অবস্থান ছিল। ঘটনার সপ্তাহ পার হলেও জিরো পয়েন্টের বাস্তুহারা রোহিঙ্গাদের কোথায় নেয়া হবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
