নিজস্ব প্রতিবেদক
রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে জায়গা বেদখলের অভিযোগ তুলেছে স্থানীয় এক পরিবার। ‘বেদখলে’ থাকা জমি নিজেদের রেকর্ডীয় দাবি করে সেটি উদ্ধারে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে পরিবারটি। শনিবার বিকেলে রাঙামাটি রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় সুশীল চাকমা নামের বিলাইছড়ি উপজেলার স্থানীয় এক ব্যক্তি। তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরও ওই জায়গা নিজেদের বলে দাবি করছে। তারাও আইনি প্রক্রিয়ায় বিষয়টি দেখবেন বলছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুশীল চাকমা বলেন, ‘ক্রয়সূত্রে আমি রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার ১২৬নং বিলাইছড়ি মৌজার ১০ শতক জায়গার মালিক হই। কিন্তু হঠাৎ করে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী মো. শাহজাহান আমার রেকর্ডীয় জায়গার ৬ শতক জমির ওপর অবৈধভাবে বসতবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ওই জমির বৈধ কোন কাগজপত্র কিংবা রেকর্ড নেই। এ ব্যাপারে আমি ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাঙামাটি অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক, জেলার উপ-পরিচালক , উপজেলা কৃষি কার্যালয়কে বেদখল ছেড়ে দিতে লিগ্যাল নোটিস দিই। এখন অবধি আমার জায়গা বেদখলে থেকে না ছাড়ার কারণে আমি বিজ্ঞ আদালতে বিবাদীগণের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করি।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘বিজ্ঞ আদালত বিবাদীগণের বিরুদ্ধে ৭ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানো নোটিস জারি করলেও এখনো কোন উত্তর দেয়নি বিবাদীগণ। এমনকি আমার জায়গার অবৈধ দখলও ছেড়ে দেননি। উল্টো মামলা চলাকালীন সময়ে আইন অমান্য করে ওই জায়গার ওপর পরিমাপ করে আসছে। এতে করে আমাকে অনিশ্চয়তা ও মানসিক দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকতো হচ্ছে; ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এমতাবস্থায় আমার বৈধ রেকর্ডীয় জায়গা ফিরে পেতে প্রশাসনের কাছে দায়ের করা মামলা সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইননুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আবেদন করছি।’
বিলাইছড়ি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী মো. শাহজাহান জানান, ‘চাকরির সুবাধে কৃষি অফিসের জায়গায় আমি বসবাস করে আসরছি। এ জায়গা যদি কৃষি অফিসের নিজস্ব জায়গা না হয়; তাহলে আমার দখল ছেড়ে দিতে কোন আপত্তি নেই।’
এ প্রসঙ্গে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাঙামাটি জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক কৃষ্ণ প্রসাদ মল্লিক জানান, ‘বিরোধপূর্ণ জায়গায় আমাদের স্টাফ শাহজাহান বসবাস করছে; এমনকি সেটি আমাদের নিজস্ব জায়গা। যদিও স্থানীয় এক ব্যক্তি নিজের জায়গা বলে দাবি করে আসছেন। আমরা ইতোমধ্যে আইনি নোটিস পেয়েছি; শীঘ্রই সেটির জবাব দেব।’
