নভেল করোনাভাইরাস আতঙ্ককে কেন্দ্র করে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূলবৃদ্ধি ঠেকাতে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে দ্বিতীয় দিনের মত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
শনিবার সকালে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পল্লব হোম দাশের নেতৃত্বে জেলা শহরের বনরূপা, রিজার্ভ বাজার ও তবলছড়ি নামক এই তিনটি বাজারে অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে অংশ নেয়া জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পল্লব হোম দাশ বলেন, আমরা শুক্রবার বিভিন্ন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করলেও আজ (শনিবার) শুধুমাত্র সচেতনতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরা ব্যবসায়ীদেরকে বেশি পণ্য এক সঙ্গে বিক্রয় না করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি। তবে বেশি দাম রাখার অভিযোগে একজনকে নামমাত্র ৩০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আমাদের এ অভিযান চলমান থাকবে।
এদিকে শনিবার সকাল থেকে রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা জানা গেছে, বাজারে নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। তবে ক্রেতারা বাড়তি পণ্য ক্রয় করার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই পণ্যের কৃত্রিম সংকট দেখা দিতে পারে এমন আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
বনরূপা বাজারের মুদি ব্যবসায়ী মো. মঈনুল আবেদীন জানান, যাদের এক কেজি প্রয়োজন সেই ব্যক্তিও ১০-১৫ কেজি করে বাজার করছেন। তার ফলে বাজারে বিভিন্ন পণ্যের কৃত্রিম সংকট দেখা দিয়েছে। আমরাও চট্টগ্রাম থেকে পর্যাপ্ত মালামাল পাচ্ছি না। আমরা কম বিক্রয় করতে চাইলেও ক্রেতারা বেশি ক্রয়ের চেষ্টা করছেন।
বনরূপার আরেক মুদি ব্যবসায়ী জামাল বলেন, যারা দৈনিক ১ কেজি চাল কিনতো, তারাও এখন বস্তায় বস্তায় চাল কিনে নিয়ে যাচ্ছে! আগামী ছয় মাসেও তারা খেয়ে এগুলো শেষ করতে পারবে না। আমরা বারণ করেও ক্রেতাতের বুঝাতে করতে পারছি না। ফলে বাজারে পণ্যের সংকট তৈরি হচ্ছে। এমন চলতে থাকলে বাজার ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।

আরেক ব্যবসায়ী মো. শাহাদত বলেন, আগে ব্যবসায়ীরা পণ্য মজুদ করত; আর এখন পাবলিক চাল, ডাল, তেল পেঁয়াজের মত নিত্য প্রযোজনীয় পণ্য মজুদ করছে। ব্যাপারটা অনেকটা হাস্যকর। ক্রেতাদের অনুরোধ করব এতো পণ্য কিনবেন না, এতে বাজারের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
শহরের কালিন্দীপুর এলাকার ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন বলেন, মানুষ অনেক বেশি পরিমাণে পণ্য কিনছেন। আমরা তাদের সরাসরি বলেছি যে, ইতালি সরকার বাসায় সব কিছু পৌঁছে দিয়েও মৃত্যুরমিছিল রোধ করতে পারছেনা। কিন্তু আমাদের দেশে এমন মহামারি যদি হয় তাহলে তো এই খাবার আপনি শেষ করতে পারবেন না। অযথা পণ্য কিনে বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলছেন কেন? তারপরও ক্রেতাদের দমানো যাচ্ছে না। এক একটা পরিবার ৩-৪ মাসের খাবার মজুদ করেছে।
মো. ইব্রাহিম নামের এক দিনমজুর জানান, এক বাসার জন্য এক বস্তা চল নিয়ে গিয়ে দেখি তার বাসায় আরও বস্তা চাল জমা আছে। আমি কম করে হলেও ২০ বাসায় মালামাল নিয়ে গেছি। সব বাসাতেই একই অবস্থা। মানুষ মনে হয় পাগল হয়ে গেছে। তবে ক্রেতারা বলছেন দাম বেড়ে যেতে পারে এমন শঙ্কা থেকেই তারা পণ্য কিনছেন।
