হেফাজত সবুজ
কাপ্তাই হ্রদে পর্যটকবাহী বোটে দুর্ঘটনা রোধে জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে জরুরী সভায় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমা বিনতে আমিন, রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মোঃ দিদারুল আলম, কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ আরিফুল আমিন, প্রবীন সাংবাদিক সুনীল কান্তি দে, লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মঈনুদ্দীন সেলিমসহ ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমিতি, হাউজ বোট মালিকরা সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা।
জেলা স্কাউটের সম্পাদক মোঃ নুরুল আবছার বলেন, রাঙামাটির পাহাড়িকা পরিবহনে কোন বাড়তি লোক নিতে পারেনা। কারণ সেখানে মালিক পক্ষের কঠোর নজরদারী থাকে। তাহলে বোটের বেলায় কেন সেটা বাস্তবায়ন হয়না ? চাইলে আপনারা সেটা পারেন, কিন্তু তা করেননা। ফলে বোটের মালিকরা এসব মৃত্যুর দায় এড়াতে পারেন না। প্রশাসনের পাশাপাশি মালিক পক্ষেরও সচেতন হতে হবে।
সাংবাদিক সুনীল কান্তি দে বলেন, হ্রদ ব্যবস্থাপনা কমিটি রাঙামাটিতে কোন সভা করেনা, তাহলে হ্রদের সমস্যার সমাধান হবে কিভাবে ? অতীতেও এই হ্রদে অনেক প্রাণ ঝড়েছে। কিন্তু গৃহিত সিদ্ধান্তের কোন বাস্তবায়ন হয়নি, এটা দুঃখজনক।
লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মঈনুদ্দীন সেলিম বলেন, ডিসি বাংলো এলাকায় কম বেশি প্রতি বছরই দুর্ঘটনা ঘটে। আমরা দাবি করেছিলাম এলাকাটায় বয়া দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হোক। কিন্তু বিআইডাব্লিউটিএ কোন পদক্ষেপই গ্রহণ করেনি। দুর্ঘটনার পর তরিঘরি করে মাত্র একটা বয়া দিয়েই নিজেদের কাজ শেষ করা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি যাতে আর কোন প্রাণহানি না ঘটে। কোন লঞ্চ ওখান দিয়ে যায়না। চলাচল করে ট্যুরিস্ট ও মাঝারি মাপের বোট। তাদের সমিতি আলাদা, সমিতির নেতারাও এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে।
রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মোঃ দিদারুল আলম বলেন, যাত্রীদের সাথে কথা বলে আমরা জানতে পেরেছি, চালকের দোষে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। বোটে অতিরিক্ত যাত্রী ছিল। সব থেকে জঘণ্য ব্যাপার হলো দুর্ঘটনার পরপর চালক বোটের সিঁড়ি নিয়ে হ্রদ সাঁতরিয়ে পালিয়ে যায়। ফলে পর্যটকরা আরও বেশি ভয় পেয়ে যায়।
কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ আরিফুল আমিন বলেন, আপনারা ব্যবসা করেন, কিন্তু পর্যটকদের নিরাপত্তায় কিছু করবেন না, সেটা তো হয় না। আপনারা প্রশাসনকে সহায়তা পর্যন্ত করেন না। বোট দুর্ঘটনার পরে আপনারা কেউ বোটের চালকের নাম জানাতে পারেননি। আমি মনে করি আপনরার ইচ্ছা করে চালকের নাম বলেননি। তাকে আড়াল করতে চেয়েছেন, কিন্তু পেরেছেন কি? আমরা তো সব বের করে নিয়েছি, শুধু সময় লেগেছে। এছাড়া কতজন যাত্রী ছিলো সেটাও জানাতে পারেননি। হাউজ বোট কয়টা আছে, তাতে কারা রাত্রিযাপন করেন সেটাও আমরা জানিনা, বোটগুলো কোথায় অবস্থান করে তাও জানিনা। ওই সব বোট থেকে কেউ যদি মিসিং হয় সেটা আমরা বলতেই পারবনা। এভাবে তো চলতে পারে না। সভায় যে সিদ্ধান্ত হবে তার বাস্তবায়ন করতেই হবে। যদি আপনারা তা না করেন তবে আমরাও আইনী পদক্ষেপ নিব, তখন কোন কিছুর আশ্রয় নিয়েও রক্ষা পাবেন না।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, রাঙামাটি পর্যটন নগরী, এছাড়া এখানে অন্য কিছু নেই। সেখানে যদি এমন ঘটনা ঘটে তাহলে তো পর্যটক মুখ ফিরিয়ে নিবে। তখন আপনাদের কি অবস্থা হবে তা কি একবার ভেবে দেখেছেন? সব কিছুর জন্য কেন আপনারা প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে থাকবেন। নিজের দায়িত্ব বলে কি কিছু নেই? আমি বা আমরা কখন বলবো, তখন আপনারা করবেন, এটা তো হয়না।
তিনি বলেন, শুধু পদ পদবী নিয়ে নিয়ে থাকলে হবে না, দায়িত্বও নিতে হবে। পাশাপাশি বিআইডাব্লিউটিএ ও নৌ- ও ট্যুরিস্ট পুলিশকে আরও সক্রিয় হওয়ার জন্য অনুরোধ করেন তিনি।
সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, এর মধ্যে রয়েছে-নৌযানে যাত্রী ধারণ ক্ষমতা, ভাড়া, বোট নাম্বার, লাইফ জ্যাকেট থাকতে হবে। বোট চালকদের ডাটা বেইজ তৈরি করা, বোটের ছাদে যাত্রী না ওঠা, সাউন্ড সিস্টেম বোটে না তোলা, রাতে কোন পর্যটকবাহী বোট হ্রদে না চলা । এইসব সিদ্ধান্তসমূহ আগামী দশদিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এর পরে প্রশাসন প্রতিটি বোট ঘাটে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবে বলেও জানানো হয় সভায়।
Previous Articleউন্নয়নের জন্য নৌকার বিকল্প নেই: পার্বত্য মন্ত্রী
Next Article রাঙামাটি কলেজ দরিদ্র তহবিল বন্টনে বৈষম্যের অভিযোগ !
