ঝুলন দত্ত, কাপ্তাই ॥
মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে প্রাগৈতিহাসিক তীর্থস্থান রাঙ্গামাটির কাপ্তাই সীতাঘাট শ্রীশ্রী সীতা মন্দিরে মহাবারুণী স্নান উপলক্ষে বুধবার হাজার হাজার ভক্তের সমাগম ঘটেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা হতে আগত সনাতনি সম্প্রদায়ের ভক্তরা ঐতিহাসিক কর্ণফুলি নদীতে স্নান, সীতা মন্দির, শম্ভুনাথ মন্দির, কালি মন্দিরে পূজা দেওয়া এবং মহাপ্রসাদ গ্রহণের মাধ্যমে মা সীতা দেবীর কাছে তাদের মনের বাসনা ব্যক্ত করেছেন। এই উপলক্ষে অষ্টপ্রহরব্যাপী তারকব্রহ্ম মহানামযজ্ঞ ও সীতা মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে একটি মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে সীতা মন্দির। ঐতিহাসিক এই মন্দিরে বিভিন্ন নির্দশন ঘুরে ফিরে দেখছেন ভক্তরা।
মহাবারুণী স্নানে রাঙামাটির ভেদভেদি হতে আসা ভক্ত চন্দন ঘোষ, রাঙ্গুনিয়ার সৈয়দবাড়ী হতে আসা শ্রীনাথ বণিক, চন্দ্রঘোনার রুমা চক্রবর্তী, কোদালার দিগন্ত ধর, মজুমদারখীলের মমতা দাশসহ অনেক ভক্ত জানান, ঐতিহাসিক এই পবিত্র তীর্থ স্থানে আসতে পেরে নিজেদেরকে পুণ্যবান মনে হচ্ছে। আমরা মা সীতা দেবীর বিভিন্ন নির্দশন ঘুরে ফিরে দেখছি এবং মহাবারুণী স্নানে স্নাত হয়ে পবিত্র হচ্ছি।
সীতাঘাট মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি রতন দাশ জানান, ঐতিহাসিক এই সীতা মন্দিরে শত শত বছর ধরে ভক্তরা আসছেন। সীতা মন্দির, শম্ভুনাথ মন্দির, কালি মন্দির সহ মা সীতার বিভিন্ন ঐতিহাসিক নির্দশন দেখছেন ভক্তরা। সকলের জন্য প্রসাদের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দাশ জানান, এই মন্দিরে মা সীতার অনেক নির্দশন আছে। মা সীতা যে ঘাটে স্নান করেছেন আজ সে ঘাটে ভক্তরা স্নান করেছেন। এই স্থানে অনুষ্ঠান করতে গিয়ে আমাদের অনেক প্রতিকূলতা সৃষ্টি হলে সকলের সহযোগিতায় অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পেরেছি।
মাতা সীতাদেবী মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ জ্যোতির্ময়ানন্দ পুরী মহারাজ জানান, এটি একটি প্রাগৈতিহাসিক তীর্থ স্থান। এই স্থান ভ্রমণ করলে আত্মার শান্তি পাওয়া যায়।
এদিকে মহাবারুণী স্নান উপলক্ষে বুধবার অষ্টপ্রহরব্যাপী মহানামযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিন বেলা ১২ টায় মন্দির প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধুরী প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। এইসময় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার দল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার সনাতন সম্প্রদায়সহ সব সম্প্রদায়ের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।
