প্রতিনিয়ত কত কিছু জমিয়ে রাখি আমরা।কত শত কাজ অভিমান শখ নিয়ম অভ্যেস বেঁচে থাকা ভালোবাসা ভালো লাগা।আবার কখনো কখনো বেহিসেবী বেঁচে থাকা,আমাদের কাছে।সত্য মানেই জন্ম, সফলতা এবং মৃত্যু। এরমাঝে বেঁচে থাকা নামক যে দীর্ঘ বিষয়টা আংগুল গলে বেরিয়ে যায় তার হিসেব কি করি আমরা!প্রকৃতিতে বেঁচে প্রকৃতির হিসেব বেমালুম ছেড়ে যাই।কেবল নিজের জন্য বাঁচতে বাঁচতে একদিন যেয়ে যখন আমরা জানলাম প্রকৃতিও ঠিক হিসেব করতে জানে,দেয়ালে ঠেকলে পিঠ হিসেব ছাড়েনা প্রকৃতিও।
তখন এই বদ্ধ রুদ্ধ সময়ে আমরাও যেয়ে ঠেকলাম যার যার ঘরে পরিবারে। অথচ বাঁচতে গিয়ে সফলতা খুঁজতে গিয়ে পরিবারের জন্য কতটা সময় ছিলো আমাদের । ন’টা পাঁচটার জীবন শেষে মোবাইল স্ক্রিন কিনবা ল্যপটপের মনিটরে আটকে নিয়ম করে কেবল খাবারের সময়টুকুতে এরুম ওরুম।জীবনের অর্ধেকেরও বেশি সময় চারদেয়ালে আটকে থাকা মায়েদের জীবনটা ঠিক কেমন ছিলো বুঝি কি আমরা!নাহ,ওটা কেবলই নিয়ম।মায়েদের জীবনতো এমনিই থাকার কথা!সতিই! কেন! আমরাই ওমন নিয়ম মানিয়ে নিয়েছি বলেই। অথচ ক’টা দিনের বন্দী জীবনে কি তীব্র হাসফাস আমাদের। আমাদের মধ্যবিত্ত মায়েদের জীবনে কোন কিটি পার্টি থাকেনা,সপ্তাহান্তে কোন ক্লাবে গেট টুগেদার থাকেনা ,নিয়ম করে বিদেশ ভ্রমনও থাকেনা।
আমাদের মায়েদের জীবনে কেবল সকাল বিকেল রান্নাঘরে নিয়ম করে ভ্রমন থাকে,ঠিক নিয়ম করেও নয় এসবের কোন নিয়ম নেই,যখন তখন। কখনো সখনো রাস্তায় চোখ মেলে কিছু দীর্ঘশ্বাস। ছেলেমেয়েদের ব্যতিব্যস্ততায় মায়েরা ঠিক কখন যেন একা বাঁচতে শিখে যায়!আমরাও মাকে ঠিক ওভাবে দেখতেই!বছরে উৎসবে নিয়ম করে ফোন কিনবা নিজের পছন্দের রঙের শাড়ি কিনে এনে মায়ের হাতে দিয়ে দায়িত্ব শেষ।
কি অদ্ভূদ বেঁচে থাকা আমাদের।অথচ সেই আমাদের উচ্ছল শৈশবের ভীড়ে প্রাণ খুজে নেয়া মা হুট করে বড় হয়ে যাওয়া আমাদের ব্যস্ততায় একাকীত্বে কেমন ভাবে বাঁচে আমরা কজন জানি। স্তব্ধ থমকে থাকা এসময়ে ছুটছে কেবলই বয়স,প্রকৃতি তার অভিশাপে জীবন আটকাতে পারলেও আটকাতে পারেনি বয়স।বেঁচে থাকার সময় কাল কমছে।কি জানি প্রকৃতি বাঁচতে দিবে কিনা।কখন মরে যাই কে জানে এই ভাবনার বোধদয়ে জীবনকে তীব্রভাবে বেঁচে নেয়ার প্রত্যয় এই প্রজন্মে প্রচন্ড,অথচ প্রকৃতি কি হিসেব করলো!
প্রকৃতি হুট করে বাক্স বন্দী করে দিলো,যা আছে যেভাবে আছে তার মধ্যে বাঁচো।নতুন উৎপাদন নতুন সঞ্চয় বলে সুযোগ রাখেনি। বাক্সে পিঠ রেখে আমরা জানি বাইরের পৃথিবী দেখতে দেখতে চার দেয়ালটাই দেখা হয়নি কখনো,দেয়ালে দেয়ালে জমা অভিমান সংকট স্যাতস্যতে গায়ে সময় কাটেনা।অথচ এই দেয়াল বন্দি জীবনটাকে প্রাণ দিয়ে বাঁচিয়ে সঞ্চয়ের আবহ জমিয়েছে মা’য়ের সময়কাল।সেইযে মায়েদের ভাবনা আজ খাও তারপর এক সপ্তাহের জন্য না পারো অন্তত কালকের টা জমিয়ে রেখো।কেবল আজ বেঁচে নিলেই কি হবে!চলমান এই জীবনে কখ্নো কখনো পিছনে ফিরেও দেখতে হয়,সেই সময়কেও ধুঁয়ে মুছে যত্নে রাখতে।
সময় রুখে দিলে বাঁচতে হয় সেই সময়কে নিয়েই।অথচ ছুটতে ছুটতে আমরা ফেলে যাই দূর অতীতের সময়কাল যাপিত জীবন,অথচ গতকাল ছাড়া আজ কিনবা আজ ছাড়া আগামীর জন্ম হয়না! ওই যে জমিয়ে রাখা কাজ,চলমান জীবনে বেঁচে মুদ্রার উলটো পিঠের যে জীবন আমরা দেখতেই পাইনি,সময় কি আমাদের সে জীবন দেখাতেই জেগে উঠেছে।
যদি বেঁচে যাই আমরা কি শিখে নিবো আসলে কিভাবে বাঁচতে হয়।আমরা কি পারবো প্রকৃতির ঋন শোধ করতে।আমাদের আশেপাশের প্রতিটা ছায়ার দায় চুকাতে। জীবনের ব্যলেন্সিং শিখবো আমরা।নাকি আরো বেপরোয়া জীবনে ছুটবো! প্রকৃতি কে ভালোবেসে আরো খানিকটা কাছা কাছি থাকা কি হবে আমাদের।একটু কি শুধরে যাবো সময়ের কাজ সময়ে গুছিয়ে নিতে,কত কি করা হয়নি বাঁচা হয়নি ঋন শোধ হয়নি বাঁচতে বাঁচতেই অন্যদেরও বাঁচিয়ে নিতে,ভালোবেসে তীব্র চিৎকারে জানান দিতে।
পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়ার আগে সুন্দর পৃথিবীকে তার শুদ্ধ বাতাস ফিরিয়ে দিতে পারা কি খুব কঠিন হবে!পারষ্পরিক রেষারেষি হার জিতের খেলা ছেড়ে সমস্বরে বেঁচে নেই।বাঁচতে দেই প্রকৃতি প্রাণী কে তার মত করেই,কঠিন কি! এই রুদ্ধশ্বাস আবদ্ধ সময় প্রকৃতির সৃষ্ট দূর্যোগ আমাদের কে বেঁচে থাকার যে নিয়ম শিখিয়ে যাচ্ছে বেঁচে থাকার সুযোগ পেয়েই কি আমরা ভুলে যাবো!! আমরা কি ভুলে যাবো আমাদের বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছে যারা,আমাদের অব্যবস্থাপনা আমাদের সংকটে অসুস্থ জাতি ভাবনা ,ফের যদি ভুলেই যাই সব প্রকৃতি ফের হিসেব মেলাতে কঠিন রূপে হাজির হবে তা কে জানে!সে হিসেবের দায় চুকোতে হবে হয়তো আমার পরের প্রজন্মকে ।আমরা কি প্রস্তুত আজকের শিশুর জন্য ফের অনিরাপদ ভবিষ্যৎ রেখে যেতে!
করোনা মারছে কিংবা বেঁচে থাকা শিখাচ্ছে ঠিক বেঁচে থাকা নয় কিভাবে বাঁচতে হয় সে হিসেব,আমি আপনি যা ভাবি জীবন কেবল তাই নই,আমাদের যা বাঁচিয়ে রাখে এই আলো এই বাতাস ছায়া তাদেরওতো হিসেব নিকেশ আছে আমাদের সাথে।এই বস্তুগত আপনি কে তুড়িতে উড়িয়ে দিচ্ছে যে বাঁচিয়েছে এতকাল সে-ই।তবুও যদি আমরা কৃতজ্ঞ না হই শুদ্ধ না হই।কে বাঁচাবে আমাদের!!
লেখক : পাহাড়টোয়েন্টিফোর ডট কম ও দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রামের ফিচার এডিটর/ বর্তমানে ভারতের ব্যাঙ্গালোর ইউনিভার্সিটিতে মাসকমিউনিকেশন ও জার্নালিজম বিভাগে উচ্চতর ডিগ্রি নিতে অধ্যয়নরত
