বিশ্বব্যাপী করোনা আতঙ্কেও পাহাড়ে থেমে নেই গুলি করে হত্যার ঘটনা। যেখানে সামাজিক দূরত্ব সৃষ্টির জন্য প্রশাসন থেকে শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে সেখানে পাহাড়ে এক সপ্তাহের ব্যবধানে আরেকটি তাজা প্রাণ ঝরে গেল। রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা থানার চিৎমরম ইউনিয়নের ওয়ার্ড যুবলীগের সহ-সভাপতি উসুই প্রু মারমাকে (৩০) বুধবার মধ্যরাতে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। চিৎমরম ইউনিয়নের হেডম্যান পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। এর আগে গত ২৫ মার্চ বাঘাইছড়িতে জনসংহতি সমিতির(এমএন লারমা) এক কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
চন্দ্রঘোন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, মধ্যরাতে ওয়ার্ড যুবলীগের সহ-সভাপতি উসুই প্রু মারমাকে একদল সন্ত্রাসী ঘর থেকে বাইরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভোরে লাশ উদ্ধার করে। তবে এই ঘটনার সাথে কারা জড়িত এই মুহূর্তে বলা সম্ভব না হলেও এলাকাটি সন্তু লারমা জেএসএসের নিন্ত্রণাধীন এলাকা হিসেবে পরিচিত।
কাপ্তাই উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন বলেন, পাহাড়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী মানুষ আওয়ামীলীগের রাজনীতি করলে সন্ত্রাসীরা তাদের বিভিন্ন সময় হত্যার মাধ্যমে আওয়ামী রাজনীতি করতে বাধার সৃষ্টি করে আসছে। এটি সেই কারণে হয়েছে বলে আমরা মনে করছি। তিনি আরো বলেন, রাতে ঘটনা শোনার পর সেখানে গিয়ে পরিবারের সাথে কথা বলেছি, নিহত উসুই প্রু মারমার স্ত্রী আমাদের জানিয়েছেন মধ্যরাতে ৭-৮ জন বাসার দরজা ভেঙ্গে বাসায় প্রবেশ করে এবং বাসা থেকে ১ কিলোমিটার দূরে নিয়ে তাকে তিন রাউন্ড গুলি করে হত্যা করে। তাঁর শরীরে গুলির চিহ্ন রয়েছে।
রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. মুছা মাতব্বর ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, যখন করোনা ভাইরাসের সংকটময় মুহূর্তে মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে, সেখানে সন্ত্রাসীদের এমন ঘটনা সত্যিই বিস্ময়কর। তারা আসলেই মানুষ? তিনি দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান প্রশাসনের কাছে। একই সাথে পাহাড়ে সব ধরনের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারেরও দাবি জানান।
