ভূমিধস কিংবা মহামারি সবক্ষেত্রেই রাতদুপুরে দেখা যায় প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা মানুষগুলোর ছুটাছুটি। যখন ভূমিধসের শঙ্কায় থাকা মানুষগুলোকে বার বার বলার পরও আশ্রয়কেন্দ্রে না গিয়ে ঘরে বসে থাকে ঠিক তখনও জেলা প্রশাসনকে ছুটে গিয়ে শঙ্কায় থাকা মানুষগুলোর ঘরে তালা দিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠাতে হয় জোর করে।
রাত দুইটা কিংবা তিনটায় যখন সব মানুষ ঘরে ঘুমান প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা তখন শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলে, যেসব স্থানে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে সেখানে কোন মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে না গিয়ে রয়ে গেছে কিনা তা জানতে।
তেমনিভাবে কোভিড ১৯ করোনা ভাইরাসের সংক্রমন যাতে ছড়িয়ে পরতে না পারে সে জন্য সামাজিক দুরুত্ব নিশ্চিত করতে রাঙামাটির জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে। দিন রাত তারা এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ছুটে চলছেন। শুধু মানুষকে বুঝানোর চেষ্টে করছেন এই রোগ ছোঁয়াছে। একে অন্যের থেকে তিনফুট দুরুত্ব থাকার বিষয়টি অব্যশই মানতে হবে। তাহলে সংক্রামণ থেকে আমরা সবাই বাঁচবো। আপনার পরিবার পরিজন সন্তান আছে তাদের আপনার বাঁচাতে হবে। কোন ভাবে সংক্রামণ ছড়িয়ে পরলে তা খুব খারাব অবস্থায় যেতে পারে। এতে আপনি আপনার পরিবার পরিজন সবাই হুমকির মুখে পরবেন। পরিবারের সবাইকে ভালো রাখতে সামাজিক দুরুত্ব নিশ্চিত করুন।
কিন্তু কে শুনে কার কথা। মনে হচ্ছে জনসাধারণ সামাজিক দুরুত্ব মানলে এইসব ম্যাজিস্ট্রেটই শুধু বেঁচে যাবে আর কারো কোন লাভ হবে না। সামাজিক দুরুত্ব মানা না মানায় জনসাধারণের কোন লাভ বা ক্ষতি নাই। সব লাভ শুধু প্রশাসনের এইসব কর্তাব্যক্তিদের। তাই হয়তো বা প্রশাসনের লোকজন আসলে জনসাধারণ ঘরে ডুকে আর তারা চলে গেলে বের হয়ে আসে।
এমন মনমানসিকতার ব্যক্তিদের জন্যই বোধই গোধূলী বেলায় পুলিশকে মাইক দিয়ে বলতে হয় ‘ যারা বিভিন্ন বাড়ির ছাদ বা জানালা দিয়ে আমাদের লক্ষ্য করছেন তারা কোন ভাবেই অপ্রয়োজনে রাস্তায় নামবেন না,।
আচ্ছা এইসব নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহ যেসকল অফিসার আমাদের বা আপনাদের ঘরে ফিরাতে রাত দিন রাস্তায় কাজ করছেন, তাদের কি করোনা ভাইরাস হবে না এমন কোথাও কি লেখা আছে। তাহলে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আপনাকে আমাকে বাঁচাতে ছুটে আসছেন বার বার। আপনি মরণ জেনেও সেই পথে হাঁটছেন কেনো বার বার ?
তারা আপনাদের সাথে মশকরা করতে আসছেন না। তারা সেই বিকাল পাঁচটার অফিসটাইম মেনে অফিস থেকে চলে যাচ্ছেন না। রাতদিন এক করে আপনাকে আপনার সন্তানকে বাঁচাতে কাজ করছে, আপনি তাদের সহযোগীতা করুণ। অন্যকে সহযোগীতা করতে বাধ্য করুণ। এই সমাজে আপনি আমি যুগ যুগ হাতে হাত মিলিয়ে বাঁচবো। তারা কিন্তু এখানে আপনার আমার সামনের সুখের দিনগুলোর ভাগ চাইতে আসবে না। তারা অন্য কোথাও বদলি হয়ে তাদের সুখ দু:খের কথা শুনতে চলে যাবে।
সুতরাং চলুন আমরা এক সাথে প্রশাসনের করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে দেয়া নিদের্শনা মেনে চলি। সামাজিক দুরুত্ব বজায় রাখি। মাত্র কটা দিন ত্যাগ করলে আগামী বছরগুলোতে প্রিয়জনসহ সকল আনন্দ এক সাথে ভাগাভাগি করে নিতে পারবো।
সর্বশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি রাঙামাটি বাসীর পাশে থাকা প্রশাসনের বিভিন্ন পদে কাজ করা মানুষগুলোর প্রতি। যারা রাঙামাটির যে মানুষটির বাসায় ঘরে খাবার নাই শুনে দৌড়ে যান প্রাতিষ্ঠানিক বা ব্যক্তিগত ত্রাণ সাহায্য নিয়ে, মানুষকে ঘরে ঢোকাতে নিরাপদ দুরুত্ব বজায় রাখতে, দিন রাত কাজ করছেন, তাদের প্রতি রইলো শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
লেখক : গণমাধ্যমকর্মী
