নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামে পূর্ণ স্বায়ত্বশাসনের দাবিতে আন্দোলনরত পাহাড়ীদের সংগঠন ইউপিডিএফ এর অন্যতম শীর্ষ নেতা মিঠুন চাকমাকে। বুধবার আদালতে একটি মামলায় হাজিরা শেষে খাগড়াছড়ি শহরের অপর্ণা চৌধুরী পাড়াস্থ নিজ বাড়িতে গেলে আনুমানিক দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাকে অপহরণ করে স্লুইস গেইট এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে সন্ত্রাসীরা তাকে মাথায় ও পেটে গুলি করে ফেলে রেখে যায়। পরে লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ইউপিডিএফ এর অন্যতম শীর্ষ ‘থিংকট্যাংক’ হিসেবে পরিচিত মিঠুন চাকমা মেধাবী ছাত্র নেতা হিসেবেও সারাদেশে পরিচিত ছিলেন। তিনি পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং বদরুদ্দিন উমরের নেতৃত্বাধীন গনতান্ত্রিক বিপ্লবী জোটের রাজনীতির সাথেও জড়িত ছিলেন।
গত ১৫ ডিসেম্বর ইউপিডিএফ থেকে বহিষ্কৃত ও বেরিয়ে যাওয়া নেতাকর্মীদের একটি অংশ তপনজ্যোতি চাকমা বর্মার নেতৃত্বে পৃথক ইউপিডিএফ(গনতান্ত্রিক) নামের আরেকটি আঞ্চলিক দল গঠন করে। সেই থেকে নতুন এই সংগঠনটির হামলায় তিনজন ইউপিডিএফ নেতা নিহত হলো,যাদের দুইজন রাঙামাটিতে এবং মিঠুন চাকমা খাগড়াছড়িতে।
ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এর সাধারণ সম্পাদক রবি শংকর চাকমা এক বিবৃতিতে খাগড়াছড়িতে সেনা-সৃষ্ট নব্য মুখোশ বাহিনী সন্ত্রাসী কর্তৃক ইউপিডএফ সংগঠক মিঠুন চাকমাকে গুলি করে হত্যার ঘটনাকে ‘কাপুরুষোচিত, বর্বরোচিত ও ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ’ বলে মন্তব্য করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
তিনি অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেছেন, ‘ইতিপূর্বে রাঙামাটিতে দুই ইউপিডিএফ কর্মী ও সমর্থককে খুনের পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিহ্নিত হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় খুনীরা খোদ খাগড়াছড়ি শহরে খুন করার দুঃসাহস পাচ্ছে।’
ইউপিডিএফ নেতা বলেন মিঠুন চাকমাসহ সম্প্রতি নব্য মুখোশ বাহিনী সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত ইউপিডিএফ সদস্য ও সমর্থকদের মৃত্যুর দায় সরকার এড়াতে পারে না।
তিনি মিঠুন চাকমাকে নির্যাতিত অধিকারহারা মানুষের পরম বন্ধু এবং পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের লড়াইয়ে একজন নিবেদিত সৈনিক বলে উল্লেখ করেনএবং বলেন, দেশে বিগত জরুরী অবস্থার সময় পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি বেদখল বিরোধী আন্দোলনে তার সাহসী ভূমিকা জুম্ম জনগণ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবেন।
মিঠুন চাকমা কেবল পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগণের জন্য লড়াই করেননি, তিনি দেশের অপরাপর অঞ্চলের নিপীড়িত সংখ্যালঘু জাতিসহ শ্রমিক কৃষক মেহনতি মানুষের মুক্তির জন্যও কাজ করেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইউপিডিএফ এর প্রচার বিভাগের প্রধান নিরন চাকমা সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রবি শংকর চাকমার বিবৃতিটি পাঠানো হয়েছে।

৫ Comments
good
একজন মানুষ কে গুলি করে মারলো আর তুমি বললে গোড, এটা কি মানুষের মধ্যে পরে,, আপনের মতো কিছু মানুষ আছে
he is one kiend of terror.
Tumio mara porve aj rate
very good