‘আশ্রয়কেন্দ্র বন্ধ হলে আমরা কই যাবো, কোথায় খাবো? আত্নীয় স্বজনের বাড়িতে না হয় আর কয়দিন থাকবো। এভাবে আমাদের সাথে এমন করা হলে আমরা কোথায় গিয়ে মাথা ঠেকাবো?’ এমনটাই বললেন ১৩ জুন পাহাড়ধসে ঘরবাড়ি হারানো ভেদভেদী নতুনপাড়া এলাকার বাসিন্দা মালাভি চাকমা।
মালাভির মত এমন উৎকন্ঠা অনেকেই। তাদের সবার মনে একটাই প্রশ্ন বাড়িঘর হারিয়ে আমরা আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছি। দুই-তিন মাস ধরে আশ্রয়কেন্দ্রেই পড়ে আছি। এখন তাও ছেড়ে যেতে হচ্ছে।
ভেদভেদী সংগ্রাম বিহার এলাকার নমনি চাকমা বলেন, আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে দিলে আমরা কোথায় যাবো তা এখনো জানিনা। আর আত্নীয় স্বজনের বাড়িতেই বা কয়দিন থাকবো। তারা তো দুই-চার-ছয়দিনের বেশি জায়গা দিবেনা। আগে আমাদের বলেছিলো সরকার থেকে পুনর্বাসন করা হবে। কিন্তু এখন নাকি অল্প কয়েকটা টাকা পয়সা দিয়ে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বিদায় করবে।
ভেদাভেদী কিনামনি পাড়ায় বাসিন্দা জীবনবসু চাকমা জানান, আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে দিলে আমাদের আগের ভিটেবাড়ি ছাড়া অন্য কোথায়ও যাওয়ার জায়গা নেই। বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ন আবাসস্থলে আবার যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শুনেছি আমাদের নাকি নগদ ৬ হাজার টাকা,২ বান্ডেল টিন ও ত্রিশ কেজি চাল দিয়ে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বিদায় করবে, কিন্তু এই স্বল্প টাকা দিয়েতো আমাদের কিছুই হবেনা। আমরা কি ঘরভাড়া দিবো নাকি নিজের জীবন বাঁচাবো?
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান জানান, আগামী ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই আশ্রয়কেন্দ্র গুলো বন্ধ করে দেয়া হবে। এরমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ৩১২ পরিবারের প্রতি পরিবারকে ২ বান্ডেল টিন, ৩০ কেজি করে দুই মাস পর্যন্ত চাল ও কিছু নগদ অর্থ দেয়া হবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, সরকার থেকে আমাদের জন্য এখনো কোন বরাদ্দ আসেনি। বরাদ্দ ফেলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে তা বিতরণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত ১৩ জুন প্রবল বর্ষণে রাঙামাটিতে ৫ সেনাসদস্যসহ ১২০ জন মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এতে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ৯ হাজার ৫০০শত, সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজার ২৩১টি পরিবার।
