মো. মহিউদ্দিন, বাঘাইছড়ি ॥
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যবসায়িক প্রাণকেন্দ্র খেদারমারা ইউনিয়নের দুরছড়ি বাজারে বছর ঘুরতেই আবারো ভয়াবহ অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটেছে। এবার ভস্মীভূত হয়েছে অন্তত ৬৮টি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৪০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টায় দুরছড়ি বাজার মসজিদ মার্কেটে অগ্নিকা-ের সূত্রপাত বলে জানা যায়।
৩১ নং খেদারমারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিল্টু চাকমা জানান, সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে মিলন কান্তি দে’র দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। জানা যায়, দোকান মালিক মিলন কান্তি দে গ্যাসের চুলা সংস্কার করছিলো, এসময় তার কর্মচারী অকটেন ঢেলে বিক্রি করছিলো, মিলন গ্যাসের চুলা ঠিক হয়েছে কিনা তা চেক করার সময় চুলার আগুন ও তেলের সংমিশ্রণে আগুন বৃহদ্বাকার রূপ ধারণ করে। দোকানদার বস্তা দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও কোনো কাজ হয়নি। উক্ত আগুনে দুরছড়ি বাজারের লঞ্চঘাট হতে পোস্ট অফিস পর্যন্ত অন্তত ৬৮টি দোকান ভস্মীভূত হয়।
আগুন নিয়ন্ত্রণে দুরছড়ি ক্যাম্পের সেনাবাহিনী সদস্য, দুরছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির সদস্য এবং স্থানীয় লোকজনের চেষ্টায় এবং দীঘিনালা উপজেলা থেকে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে প্রায় ৩ ঘন্টা চেষ্টার পর আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) রুমানা আক্তার অগ্নিকান্ডের বিষয়ে নিশ্চিত করেন এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, ৬৮টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। দোকান পাশাপাশি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আমরা যতটুকু সম্ভব সহায়তার চেষ্টা করবো।
এর আগে গত বছরের ২৪ মে একই বাজারে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছিলো, সেসময় প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিলো।
উল্লেখ্য যে, বাঘাইছড়ি উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় প্রায় সময়ই বিভিন্ন বাজারে ও বসত বাড়িতে অগ্নিকান্ডের ফলে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে অনেক পরিবার। উপজেলা বাসী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ব্যাপারে বারবার দাবি তোলার পরেও এখনো এই বিষয়ে তেমন কোন সুফল দেখা যাচ্ছে এই উপজেলাবাসী।
