প্রতি বছরের মতো এবারও ৩০ এপ্রিল মধ্যরাতের পর থেকে অর্থাৎ ১ মে থেকে আগামী তিনমাস দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম হ্রদ কাপ্তাই হ্রদে সব ধরনের মাছ ধরা, বাজারজাতকরণ এবং পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
অন্যদিকে মৎস্য উৎপাদনের মধ্যদিয়ে রাজস্ব আদায়েও ব্যাপক ভূমিকা রাখে এই হ্রদ। কাপ্তাই হ্রদে কার্প জাতীয় মাছের বংশবৃদ্ধি, হ্রদে অবমুক্ত করা পোনা মাছের সুষম বৃদ্ধি, মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিতকরাসহ হ্রদের প্রাকৃতিক পরিবেশে মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির সহায়ক হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রতিবছরের পহেলা মে থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদে তিন মাস মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। পুরো রাঙামাটি জেলায় বিভিন্ন উপজেলায় সরকারি তালিকাভুক্ত প্রায় ২২ হাজার জেলের জীবন এই হ্রদের উপর নির্ভরশীল।
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) সূত্র জানা যায়, ‘কাপ্তাই হ্রদে কার্প প্রজাতি মা মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করার জন্য ডিম ছাড়ার মৌসুম মাছ ধরা বন্ধ রাখা প্রয়োজন। কাপ্তাই হ্রদ দেশের কার্প জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজননের একটি অন্যতম স্থান। এ সময় মাছ শিকার বন্ধে কাপ্তাই হ্রদে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। স্থানীয় বরফ কলগুলোও এসময় বন্ধ থাকবে।’
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, আমি প্রত্যেক ইউএনও’কে বলে দিয়েছি, হ্রদে মাছ আহরণ বন্ধের পরবর্তীতে যতদিন পর্যন্ত জেলেদের মাঝে নির্ধারিত ভিজিএফ কার্ডের সহায়তা প্রদান করা হবে না, ততদিন পর্যন্ত করোনার ত্রাণ তহবিল থেকে তাদের যেন সহায়তা দেওয়া হয়। জেলেদের মাঝে নির্ধারিত ভিজিএফ কার্ডের খাদ্যশস্য বরাদ্দের বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ইতোমধ্যে জানিয়েছি। আশা করছি, এবার আর সমস্যা হবে না।’
