সৈকত বাবু ॥
প্রায় সবাই বুঁদ হয়ে আছে ধানের শীষ আর নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের নিয়ে। চায়ের কাপে ঝড় তোলা শুরু হয়ে গেছে ভোটারদের মাঝে। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি রাঙামাটি পৌরসভা নির্বাচনে বড় দুই দলের প্রার্থীর বিপরীতে পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে এক অসম ভোটযুদ্ধে মাঠে আছে আরো তিন মেয়র প্রার্থী বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কোদাল মার্কায় মো: আব্দুল মান্নান রানা, জাতীয় পার্টির প্রজেশ চাকমা, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা আওয়ামীলীগের উপ প্রচার বিষয়ক সম্পাদক মোবাইল মার্কার অমর কুমার দে।
সাধারণ ভোটারদের আলোচনার বাইরে থাকা এই তিন প্রার্থী অসাধারণ কিছু করার জন্য মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন নিজের মত করে। আওয়ামীলীগ-বিএনপির মত বড় পরিসরে না হলেও নিজেদের সাধ্যমতে চেষ্টা করছেন প্রচারের সাথে ভোটারের মন জয় করতে। শহরে কোদাল মার্কার পোস্টার মাইকিং দেখা গেলেও এখনও খুব একটা চোখে পড়ছে অন্য দুই প্রার্থীর মাইকিং বা পোস্টার।
বড় দুইদলের প্রার্থীর বিপরীতে কতটুকু যেতে পারবেন এমন অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রার্থীরা? তেমন প্রশ্নে কৌতুহল তৈরি হয়েছে ভোটারদের মাঝে। অনেকে ভাবছেন নিয়ম রক্ষার লড়াই করেই ক্ষান্ত হবেন এমন প্রার্থীরা। অবশ্য প্রার্থীরা বলছেন ভোটাররা চাইলে পরিবর্তন হতে পারে এবারের নির্বাচনে।
প্রজেশ চাকমা পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের রাবার প্রকল্পের সাবেক চাকুরিজীবী রাঙামাটি জেলা ছাত্র সমাজের সাবেক সভাপতি জাতীয় পার্টির এরশাদের লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে মেয়র পদে নির্বাচনে নাম লিখিয়েছেন এই প্রার্থী। যদিওবা দীর্ঘদিনের গ্রুপিংয়ে দলের অবস্থা তেমন শক্তিশালী নয়; জেলায় তারপরও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী লাঙ্গলের এই প্রার্থী।
প্রজেশ চাকমা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী হয়ে বলেন, জনগণের সর্বোচ্চ সমর্থন পাচ্ছি এভাবে থাকলে আমি অবশ্যই জয়ী হবো। ব্যক্তি জীবনে রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠনের সাথে জড়িত আমি। জাতীয় পার্টির কোন্দল বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের দলে কোন কোন্দল নাই, সবাই আমার পক্ষে কাজ করছে। বড় দলের প্রার্থীদের সাথেও তার ভালো সম্পর্ক আছে বলেও তিনি দাবি করেন।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাঙামাটিতে রাজনীতির দীর্ঘ ইতিহাস ও ব্যাপক কোন কার্যক্রম না থাকলেও সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদে জ্ুঁই চাকমাকে প্রার্থী দিয়ে আলোচনায় আসে এ দলটি। এবার পৌরসভা নির্বাচনে দলটি দিয়েছে মেয়র প্রার্থী নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে শুরু করেছেন নির্বাচনী প্রচারণাও। পরিবর্তনের লক্ষ নিয়েই লড়াই নামা রানার এমনটিই দাবি দলটির।
আব্দুল মান্নান রানা বলেন, আমরা মানুষের ভোটে অধিকার আদায়ের জন্য নির্বাচন করছি পাশাপাশি মানুষের সেবা করাই আমাদের লক্ষ্য। আমি ব্যক্তি জীবনে অনেক সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত আছি। জনগণের কাছে আমাদের একটাই অনুরোধ যাতে সকলে ভোট দিতে কেন্দ্র যায়। সাধারণ ভোটারদের মাঝে আমি ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।
অপরদিকে মোবাইল মার্কা নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অনেকটা ‘একা চল’ নীতি অনুসরণ করে নির্বাচনের মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত অমর কুমার দে। তিনি একইসাথে পূজা উদযাপন পরিষদ রাঙামাটি জেলার সভাপতি। দলের কোন কর্মী প্রকাশ্যে পাশে না থাকলেও দলের অনেকেই তার পেশে আছে বলে দাবি আওয়ামীলীগের এই নেতার।
নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এক আকাশ রাগ-ক্ষোভ-অভিমান নিয়ে লড়ছেন এই লড়াইয়ে এমনটিই জানালেন এই নেতা। অমর কুমার দে বলেন, দলকে আর কত কিছু দিলে দল আমাকে মুল্যায়ন করবে? বিএনপি হামলা করে ৪/৫ বার আমার দোকান ভেঙেছে, নিজ দলের জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা আমাকে জীবননাশের হুমকি দিয়ে দুরছড়ির আমার দোকান দখল করে রেখেছে, নেতাদের অভিযোগ দিয়েও কোন লাভ হয় নাই। তিনি আরো বলেন, রাঙামাটি আওয়ামীলীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা হিন্দু-বড়ুয়াদের জন্য অনেক কিছু করেছেন বললেও আসলে তারা কিছুই করেনি। সংখ্যালঘুদের অধিকার দিতে রাঙামাটি আওয়ামীলীগ নেতারা আন্তরিক নয়। গতবার আমাকে অনেক আশ্বাস দিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করিয়েছে। কিন্তু দল কোন কথাই রাখে নাই। হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রায় ১৭/১৮ হাজার ভোট আছে এবং আওয়ামীলীগের একটা অংশ আমার জন্য কাজ করছে তাই আমি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। চাপের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি জানি শেষ মুহূর্তে একটা বড় চাপ আসবে তবে বলে রাখি আমাকে চাপ দেয়ার বা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা বলার সাহস রাঙামাটি আওয়ামী লীগের কারো নাই। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মত নয়; রাঙামাটিতে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সম্প্রীতির নির্বাচন কামনা করি।
আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি রাঙামাটি পৌরসভা নির্বাচনে বড় দুইদলের প্রার্থীর বিপরীতে পরিবর্তনের অসম লড়াইয়ে কে কতদূর যেতে পারে তাই দেখার অপেক্ষায় রাঙামাটির পৌরবাসী।
