জিয়াউল জিয়া ॥
চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে ভয়াবহ কন্টেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত দুই ফায়ার সার্ভিস কর্মী দেহক্রিয়া রাঙামাটিতে সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার দুপুরে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মিঠু দেওয়ানের দেহক্রিয়া হয় রাঙ্গাপানি শ্মাশনে আর নিপন চাকমা দাহক্রিয়া হয় আসামবস্তী শ্মশানে।
এসময় দুই পরিবারের সদস্য ছাড়ায় আত্মীয় স্বজন প্রতিবেশি ও বন্ধুরাও উপস্থিত ছিলেন। অশ্রুসিক্ত নয়নে বাবাকে শেষ বিদায় দিয়েছে সন্তানরা। তাদের বাবা’রা যেন স্বর্গীবাসী এই প্রার্থনাই ছিল সন্তানদের।
নিপন চাকমার দুই মেয়ে, বড় মেয়ে ঢাকায় একটি কলেজে লেখাপড়া করে ছোট মেয়েটি রাঙামাটি একটি স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। বড় মেয়ের নাম প্রগতি চাকমা, ছোট মেয়ের নাম উন্নতি চাকমা।
ছোট মেয়ে উন্নতি জানান, বাবা সব সময় লেখা পড়ার ব্যাপারে উৎসাহ দিত। দুষ্টমি কম করতে বলতেন। ছুটি নিয়ে যে কয়দিন রাঙামাটি থাকতেন সন্ধ্যায় আমাকে নিয়ে পড়তে বসতেন। কান্না জড়িত কন্ঠে উন্নতি বলে, আমি আমার বাবাকে খুব মিস করছি। আমি আমার বাবাকে খুব ভালোবাসি।
মিঠু দেওয়ানের একটি মাত্র মেয়ে মোহিনী দেওয়ান। মিঠু দেওয়ানের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকে পাথর হয়ে গেছে এই তার স্ত্রী। এই মর্মান্তিক ঘটনা কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছে না স্ত্রী। ক্ষণে ক্ষণেই জ্ঞান হারাচ্ছেন।
মিঠু দেওয়ানের ছোট ভাই টিটু দেওয়ান বলেন, দাদা ১২ দিনের ছুটি শেষে শনিবার কর্মস্থলে যোগদান করেন। সেদিন রাতে সীতাকুন্ডে আগুন নিভাতে গিয়ে আমার ভাইয়ের জীবন প্রদীব নিভে গেল। ভাই ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এখন তার মৃত্যুতে মেয়ের লেখাপড়া পরিবারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, সরকারের কাছে মোহিনীর লেখাপড়া শেষ করতে পারে এবং শেষ হলে তার জন্য একটি সরকারি চাকুরীর যেন ব্যবস্থা হয়।
