শংকর হোড় ॥
নিজেদের ভুল বোঝাবুঝি ও অতীতকে দূরে ঠেলে রীতিমত বিশাল বহর নিয়ে রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে জেলার ১০ উপজেলার নেতাকর্মীদের সঙ্গী করে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। ২১টি বাস ও আটটি মাইক্রোসহকারে সাড়ে সাত শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে মঙ্গলবার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক হাজি মুছা মাতব্বরের নেতৃত্বে জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
মঙ্গলবার সকালে টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছার পর সকাল এগারোটায় আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় জেলা নেতৃবৃন্দের সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, জেলা পরিষদের সাবেক চিংকিউ রোয়াজা, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধুরীসহ জেলা, উপজেলা এবং বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। পরে টুঙ্গিপাড়া অডিটরিয়ামে রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় দীপংকর তালুকদার বলেন, শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ আওয়ামীলীগের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকারী যারা এখনো দেশের বাইরে আছে তাদের দেশে এনে বিচার করার দাবি জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘ বছর পর হলোও বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিবাদকারী হিসাবে রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীদের আজ টুঙ্গিপাড়া নিয়ে আসতে পেরে নিজের কাছে ভালো লাগছে।
এই বিষয়ে যোগাযোগ কররে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি মুছা মাতব্বর জানান, সম্মেলনের পর নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঙ্গা রাখতে এবং সম্মেলন ঘিরে যে ভুল বোঝাবুঝি ছিল সেসব কাটাতে এবং আগামী নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে আওয়ামীলীগের জয় নিশ্চিত করতে নেতাকর্মীদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। একইসাথে বাংলাদেশের সক্ষমতার প্রতীক পদ্মাসেতুও যাতে নেতাকর্মীরা দেখতে পারে সেই ব্যবস্থা করার লক্ষ্যে এই আয়োজন ছিল। তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আমরা রাজনীতি করি। তাই পদ্মাসেতুর ওপর দিয়ে টুঙ্গিপাড়ায় সরাসরি নেতাকর্মীদের নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে দেশের জন্য বঙ্গবন্ধুর যে ত্যাগ ও যে আদর্শ নিয়ে বঙ্গবন্ধু রাজনীতি করতেন সে বিষয়ে নেতাকর্মীরা আরো বিশদভাবে অবগত হয়েছেন। সামনে দিনগুলোতে যাতে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে রাজনীতি করতে পারি সেই পাঠও নেয়া হয়েছে এই সফরের মধ্য দিয়ে।
জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাতি সাইফুল আলম রাশেদ বলেন, এই ধরনের একটি সফরের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঙাভাব এসেছে। নেতাকর্মীরা স্বচক্ষে বঙ্গবন্ধুর শৈশবের স্মৃতি, তাঁর ঘরবাড়ি প্রত্যক্ষ করেছে এবং তাঁকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে সেই ইতিহাস সম্বন্ধে ভালোভাবে জানা গেছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে যে পদ্মাসেতু নির্মিত হয়েছে সেটাও সকলে দেখেছে। অর্থাৎ এক সফরের মাধ্যমে আমরা অনুপ্রেরণামূলক অনেককিছু পেয়েছি। প্রতিবছর যাতে এই ধরনের সফর আয়োজন করা হয় সেই আহ্বান থাকবে সিনিয়র নেতৃবৃন্দের কাছে।
