খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ॥
খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে অবহেলায় এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ করেছে পরিবার। তাদের দাবি ভুল চিকিৎসার কারণে আধা ঘন্টার মধ্যে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তারা হাসপাতালের চিকিৎসাসেবাকে দায়ী করেছেন। এই বিষয়ে মারা যাওয়া রোগীর ছেলে নয়ন চাকমা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি স্টাটাস দেন। এতে জেলায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
তবে হাসপাতাল এবং হাসপাতালের বাইরে ওই রোগীর চিকিৎসার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে পরিবারের চরম অবহেলাকে মৃত্যুর কারণ বলছেন চিকিৎসকরা। তাঁরা বলছেন রোগীর মৃতুতে অবহেলা অবশ্যই ছিল। তবে তা পরিবার থেকে। এখানে অবহেলা কিংবা ভুল চিকিৎসাসেবা দেয়ার সুযোগ নেই।
জানা যায়, গত শুক্রবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে অনতা চাকমা (৬৫)কে অসুস্থ অবস্থায় খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর তীব্র শ^াসকষ্ট ছিল। এসময় হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ সাইফুল ইসলাম অক্সিজেন, ইনজেকশনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেন। কিন্তু এর আধাঘন্টা পর তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর পর অনতা চাকমার ছেলে নয়ন চাকমা মায়ের ছবি যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি স্টাটাস দিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেন। তার দাবী ভুল ইনজেকশনে মায়ের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেখা দেয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
এদিকে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের পক্ষ থেকে ডা. সুবল জ্যোতি চাকমা বিষয়টির বিস্তারিত তুলে ধরে একটি পোস্ট করেন। এতে বলা হয়, অনতা চাকমার মৃত্যুতে অবহেলা অবশ্যই ছিল। তবে তা পরিবারের পক্ষ থেকে। কারণ গত বৃহস্পতিবার বিকালে স্থানীয় একটি মেডিকেল সেন্টারে ওই রোগিকে দেখেন ডা. চঞ্চল বড়–য়া। এসময় রোগির অক্সিজেন লেভেল চিল ৮৮%। তিনি রোগিকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করতে বলেন। একই সাথে সব লক্ষণ থাকায় তিনি অনতা চাকমাকে করোনা রোগি হিসেবে সনাক্ত করেন।
তবে রোগির পরিবার বাড়িতে গিয়ে কাপড় পরিবর্তন করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি জানালেও ওই দিন তাঁরা রোগিকে হাসপাতালে ভর্তি করাননি। পরের দিন সকালে অর্থ্যাৎ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তীব্র শ^াসকষ্ট নিয়ে রোগিকে হাসপাতালে আনা হয়। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক অক্সিজেন, কটসন নামক ইনকেকশনসহ আনুষাঙ্গিক চিকিৎসাসেবা দেন। কিন্তু চিকিৎসা দেয়ার ১৫/২০মিনি পর রোগী মারা যান।
এই বিষয়ে হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, রোগীর পরিবারের কথা অনুযায়ী উনি ৪/৫দিন ধরে অসুস্থ। তাঁরা যে ডাক্তার দেখিয়েছেন উনি হাসপাতালে ভর্তি করানোর জন্য বলার পরও করেনি। শুধু তাই নয় হাসপাতালে রোগীর ভাই-বোন বিলম্ব করায় একে অপরকে দায়ী করেছেন।
খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সুবল জ্যোতি চাকমা বলেন, ডাক্তারের কথামত যদি রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হতো তাহলে ঘটনাটি অন্য রকম হত। আমরা আন্তরিকতার সাথে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। আমরা অনুরোধ করব সময়মত রোগিকে হাসপাতালে নিয়ে আসুন। তিনি বিভ্রান্তি না ছড়ানোর জন্য সবার কাছে অনুরোধ জানান।
