নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান ॥
পাহাড়ের ঝিরি-ঝর্ণা থেকে উত্তোলন করা অপরিপক্ক পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে সরকারি অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাহাড়ের ঝিরি-ঝর্ণা থেকে পাথর উত্তোলনে সরকারি বিধি নিষেধ এবং স্থানীয় উন্নয়ন কাজে মানসম্মত উন্নত মানের বাইরের পাথর ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও মানা হচ্ছে না বাস্তবে। নির্মাণ কাজে ব্যয় কমাতে সংশ্লিষ্ট অফিস ম্যানেজ করে পাহাড়ের ঝিরি-ঝর্ণা থেকে অবৈধ পন্থায় উত্তোলন করা অপরিপক্ক পাথর ব্যবহার করছে ঠিকাদার। অন্যদিকে চাহিদা থাকায় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় পাথর খেকোরা পাহাড়ে পানির উৎস স্থলগুলো ধ্বংস করে ঝিরি-ঝর্ণাগুলো থেকে অপরিপক্ক পাথর উত্তোলন করে উন্নয়ন কাজের ঠিকাদারদের সরবরাহ করছেন। ফলে একদিকে পাহাড়ের ঝিরি-ঝর্ণাগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে, অপরদিকে সরকারি উন্নয়ন কাজগুলোর টেকসই স্থায়িত্ব কমে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অর্থায়নে ৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে থানচি উপজেলা পরিষদ এলাকায় চার তলা বিশিষ্ট টুইন কোয়ার্টার নির্মাণ কাজেও ব্যবহার করা হচ্ছে অপরিপক্ক স্থানীয়ভাবে উত্তোলন করা পাথর। নির্মাণাধীন ভবনের সামনে অপরিপক্ক স্থানীয়ভাবে উত্তোলন করা পাথর এবং আমদানি করা মানসম্মত বাইরের পাথরের পৃথক স্তুপ রেখে উন্নয়ন কাজটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগের কোনো তোয়াক্কা করছে না সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও প্রকৌশল বিভাগ। মানসম্মত লোহার বদলে ব্যবহার করা হচ্ছে নি¤œমানের অটো গ্রেডের কমদামি রড।
এলজিইডি বিভাগ জানায়, জেলার থানচি উপজেলায় চার তলা বিশিষ্ট টুইন কোয়ার্টার নির্মাণ কাজের টেন্ডার আহ্বান করা হয়। টেন্ডারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান “এমএইচ চৌধুরী বিলা” ৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে চলতি বছরের মার্চ মাসে উন্নয়ন কাজটি বাস্তবায়নের কার্যাদেশ পায়। ২০২১ সালের ৩০ জুনের মধ্যে কাজটি সমাপ্ত হওয়ার কথা। তবে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে উন্নয়ন কাজটি বাস্তবায়নের অগ্রগতি কম। মূলত উন্নয়ন কাজটি বাস্তবায়ন করছেন গণপূর্ত বিভাগের ঠিকাদার মো: ফারুক চৌধুরী।
সরেজমিনে ঘটনাস্থনে গিয়ে দেখা গেছে, চার তলা ভবনের দ্বিতীয় তলার ছাদ ঢালাইয়ের জন্য রড বেঁধে প্রস্তুত করা হচ্ছে। ভবন নির্মাণ কাজের জন্য মজুদ করে রাখা হয়েছে স্থানীয়ভাবে পাহাড়ের ঝিরি-ঝর্ণা থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করা অপরিপক্ক ময়লা পাথর। পাশেই আরেকটি স্তুপে মওজুদ রয়েছে বাইরের আমদানি করা মানসম্মত এলসি পাথর।
নির্মাণ কাজের ঠিকাদার মো: ফারুক চৌধুরী বলেন, স্থানীয় বা বিদেশি নয়, পাথর-বালির ক্ষেত্রে গ্রেড উল্লেখ থাকে। স্থানীয়ভাবে পাহাড়ের ঝিরি-ঝর্ণা থেকে উত্তোলন করা কোনো পাথর ভবন নির্মাণে ব্যবহার করা হয়নি। নির্মাণ কাজের সামনে স্তুপ করে রাখা স্থানীয় পাথরগুলোও আমার নয়। শতভাগ দরপত্র মেনে কাজটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) থানচি উপজেলা প্রকৌশলী মো: মাসুদুল হক বলেন, ভবন নির্মাণে স্থানীয়ভাবে উত্তোলন করা পাথর ব্যবহার করতে দেয়া হয়নি। স্তুপ করে রাখা ময়লা অপরিপক্ক পাথরগুলো কার ঠিকাদার বলতে পারবেন। তারপরও আমি ইউএনও’কে অবগত করেছি। ঠিকাদারকেও বলেছি পাথরগুলো সরিয়ে ফেলতে।
