দীর্ঘ ১১ মাস পানছড়ি বাজার বন্ধ থাকার পর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় প্রাণ ফিরে এসেছে পানছড়ি বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতাদের। আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের ডাকা বয়কটের পর থেকেই বাজার ছিল ক্রেতাশূন্য। আর এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পর বাজারের প্রতিটি অলি-গলি জমে উঠেছে বেচা বিক্রির ধুম। দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতারা সহাবস্থান থেকে তাদের নিজ নিজ বাজার করছেন এবং বিক্রেতারাও তাদের মালামাল বিক্রি করে যাচ্ছেন।
গত ২৩ এপ্রিল পানছড়ি বাজার বয়কটের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে রবিবার হাটবার সকাল থেকেই জমে উঠে পাহাড়ি-বাঙালি ক্রেতা বিক্রেতার উপস্থিতিতে। ক্রেতা-বিক্রেতা সকলের মুখে স্বস্তির হাসি।
পানছড়ি বাজারের দোকানদার সুন্দর আলী, খলিল জানান, আজ(রোববার) হাটবার আর মানুষের ঢল দেখে খুব ভালো লাগছে। তা ছাড়া বেচাকেনাও চলছে ধুমছে। ভালই বিক্রি করতে পারছি। এতদিন ছিল বাজার শুন্য আর আজকে মানুষের ঢল নেমেছে। আর এতে করে মানুষের মনে শান্তি ফিরে এসেছে।
কৃষক রমি চাকমা, বজেন্দ্র চাকমাসহ অন্যান্যরা জানান, উৎপাদিত পণ্যাদি নিয়ে বাজারে আসতে পেরে আনন্দ লাগছে। আশা করছি নিজ জমিনে উৎপাদিত পণাদি সঠিক মূল্য বিক্রি করতে পারবো। আর সংসারও চলবে ভালভাবে।
তবলছড়ির জিপ চালক মো. আবু হানিফ, আব্দুল মতিন ও আলী জানান, দীর্ঘদিন পর যাত্রী নিয়ে পানছড়ি বাজারে এসেছি। প্রাণচাঞ্চল্য বাজারটি দেখে খুব ভালো লাগছে। প্রাণ ফিরে এসেছে টমটম চালকদের মাঝেও। ভাড়াও পাওয়া যাচ্ছে ভালো। আর পানছড়ি মোহাম্মদপুর এলাকার টমটম চালক আল-আমিন, পাইলট ফার্মের সাইদুলের চোখ-মুখ ভাসছে আনন্দের হাসি। তারা জানায়, খুব কষ্টে ছিলাম ১১টি মাস। বাজার বয়কটের আগে হাটবারে ১৫শ’-২ হাজার টাকা ভাড়া মারতাম। কিন্তু বয়কট চলাকালীন চারশ’ থেকে পাঁচশ’ মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে সমিতির কিস্তি চালাতে অনেক কষ্ট হয়েছে। আশা করছি সুদিন আবার ফিরে এসেছে। আমরা চায়না এই ধরনের ঘটনা। বাজারের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসায় খুশি বলে জানান তারা।
পানছড়ি বাজার উন্নয়ন কমিটির সহ-সভাপতি তপন কান্তি বৈদ্য জানান, ক্রেতা-বিক্রেতার সহাবস্থান নিশ্চিত করতে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করব। আমরা চাই এখানকার মানুষে শান্তি ও নিরাপদে থাকুক। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্যে আমরা থাকতে চাই।
উল্লেখ্য, গত বছর ১৯ মে পানছড়ি বাজার বয়কটের ঘোষণা দিলে তার কার্যকারিতা শুরু হয় ২০ মে থেকে। দীর্ঘ ১১ মাস পর বাজারের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে দিতে যারা আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান ব্যবসায়ীরা।
