লংগদু প্রতিনিধি ॥
রাঙামাটির লংগদুতে অভিযান চালিয়ে ১২০ কেজি অবৈধ মাছ উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি)। শনিবার সকালে উপজেলার মাইনীমূখ এলাকা হতে এ মাছ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএফডিসির এক কর্মকর্তা।
বিএফডিসির লংগদু শাখার ব্যবস্থাপক আকবর হোসেন বলেন, শনিবার সকালে স্থানীয়দের দেয়া গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি নিপু দে নামের একজন মাছ ব্যবসায়ী মাইনীমখূ এলাকার একটা পুকুর থেকে কিছু মাছ ক্রয় করে বাজারে বিক্রি করতে নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে পুকুরের ওইসব মাছের সাথে কাপ্তাই লেক থেকে অবৈধভাবে ধরা বেশ কিছ কাঁচকি মাছ রয়েছে। খবর পেয়ে আমরা অভিযান চালাই এবং পুকুরের মাছের সাথে লুকিয়ে রাখা অবৈধ ১২০ কেজি কাঁচকি মাছ আটক করি। এবং আটক মাছগুলো স্থানীয় বাজারে নিলামে বিক্রি করি। তবে অভিযানের সময় মাছ ব্যবসায়ী নিপু দে পালিয়ে যায়।
এদিকে প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় যুবক তৈয়ব আলী জানান, নিপু দে নামের ওই ব্যবসায়ী কাপ্তাই লেকে মাছ ধরা বন্ধের মৌসুমে স্থানীয় বিভিন্ন পুকুর থেকে মাছ কেনার পাশাপাশি অবৈধভাবে কাপ্তাই লেকের মাছ ধরতে জেলেদেরকে সহযোগিতা করেন। এবং পরবর্তীতে পুকুরের বৈধ মাছে সাথে মিলিয়ে লেকের অবৈধ মাছ চড়া দামে বিভিন্ন হাটে বিক্রি করেন। এছাড়াও কাপ্তাই লেকে অবৈধ জাঁক বসানো, লেকের বিভিন্ন অংশে জাল দিয়ে অবৈধ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে একাধিকবার বিএফডিসির ব্যবস্থাপক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে বলে জানান তৈয়ব আলী।
উল্লেখ্য ৭২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম কাপ্তাই হ্রদে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন মৌসুমে গত ১ মে হতে পরবর্তী তিন মাসের জন্য সকল প্রকার মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। তবে এ বছর হ্রদে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় সেই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ এক মাস বাড়িয়ে আগামী ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।
