কাউখালী উপজেলা প্রশাসন থেকে মাত্র আধা কিলোমিটারের কম দূরত্বে। যেখানে সপ্তাহে দু’দিন বসে গরুর হাট, সেই প্রশাসনের নাকের ডগা থেকেই ২৭ সেগুন গাছ রাতের আঁধারে কেটে নিল দুর্বৃত্তরা। সোমবার রাত দু’টা থেকে প্রশাসনের চোখের সামনে বন উজাড়কারীরা এমন নিধনযজ্ঞ চালায়। যার আনুমানিক মূল্য চার লক্ষাধিক টাকা। গভীর রাতে গাছ কাটার শব্দে সাধারণ মানুষের ঘুম ভাঙ্গলেও জানতে পারেনি শুধু প্রশাসন। তবে মঙ্গলবার সকালে কাউখালীতে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ইউএনও সুমনী আক্তার এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরে, তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
জানা যায়, উপজেলা প্রশাসন থেকে মাত্র আধা কিলোমিটার দূরত্বে পরিষদের জায়গায় বরাদ্দকৃত গরু বাজারের পার্শ্বে কাকড়াছড়ি খালের পাড়ে সরকারি জায়গায় প্রায় ২৭টি মূল্যবান সেগুন গাছ কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু গত কিছুদিন যাবৎ এ গাছের মালিকানা দাবি করে আসছে কলমপতি কাঠ ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি বিএনপি নেতা জাফর উল্লাহ। অবশ্য এ গাছের মালিকানা দাবি করেন সরওয়ার সরকার নামে আরো এক ব্যক্তি। তিনি জানান, আমার লাগানো গাছ রাতে আঁধারে যারা কেটে নিল তাদের বিরুদ্ধে আমি মামলা করবো।
গত ৯ নভেম্বর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবরে সাবেক উপজেলা বিএনপি সিনিয়র সহ-সভাপতি জাফর উল্লাহর অসুস্থতা ও তার চিকিৎসার কথা বলে গাছগুলো কাটার জন্য আবেদন করা হয়। চেয়ারম্যান বরাবরে আবেদন জমা দেন উপজেলা শ্রমিকলগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ফারুক। দাখিলকৃত আবেদন চেয়ারম্যান ইউএনও বরাবরে পাঠান এবং বিবিধ মতে ব্যবস্থা জন্য জানান। তবে গাছ কাটার কোন অনুমতি দেয়া হয়নি তাদের। ব্যাস এতটুকুই। এতেই যেন অনুমতি মিলে গেলে তাদের। কাউখালীর ইউএনও সরকারি সফরে দেশের বাইরে থাকার সুযোগে ২৭ নভেম্বর রাত ২টা থেকে নির্বিচারে কাটা শুরু হয় মূল্যবান এসব সেগুন গাছ। এর পুরোটাই নেতৃত্ব দেন শ্রমিকলীগ নেতা মোঃ ফারুক। তার সাথে যোগ দেন আরো অন্তত ২০ জন। ভোর ৫টা পর্যন্ত চলে নিধনযজ্ঞ। সূর্য উঠার আগেই সরিয়ে ফেলা হয় বেশিরভাগ গাছ। অবশিষ্ট গাছ সরাতে না পারায় এলোমেলোভাবে পড়ে আছে বিভিন্ন স্থানে।
গাছ কাটার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে রাতেই প্রশাসনকে জানানো হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এলাকাবাসীর অভিযোগ সব ঠিকঠাক থাকায় মাত্র ৫মিনিটের পথ হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম চৌধুরী জানান, যারা গাছ লাগিয়েছে দাবি করছে তাদের সাথে যদি পরিষদের কোনও চুক্তিপত্র হয়ে থাকে তা উপস্থাপন করতে হবে তদের। এ ধরণের কিছু না করে গাছের দাবি করে রাতে আঁধারে গাছ কেটে ফেলা আইন বহির্ভূত। তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। কাউখালীতে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সদরের ইউএনও সুমনি আক্তার জানান, বিষয়টি রাতে আমাকে জানানো হয়নি। যার দরুণ গাছগুলো রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, এ বিষয়ে কাউখালী থানায় মামলা করা হবে এবং তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য থানাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
উপজেলা শ্রমিকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক গাছ কাটার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে একজন অসুস্থ মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়েছিলাম। তিনি জানান, উপজেলা চেয়ারম্যানকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানানোও হয়েছে। এরপরও যদি এ নিয়ে বিতর্ক হয় তাহলে আর কি করার আছে।
