রাঙামাটি সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে সোমবার। রাঙামাটির ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে এই সম্মেলনে সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হৃদয় বিকাশ চাকমা,সহসভাপতি দীপক বিকাশ চাকমা,সহসভাপতি মোঃ নাসিরউদ্দিন,অদ্যুত বিকাশ চাকমা, বর্তমান সাধারন সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য সাধনমনি চাকমা এবং বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য অমিত চাকমা রাজু।
সাধারন সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন জেলা যুবলীগের সহসভাপতি শহীদুল আলম স্বপন,অ্যাডভোকেট বিপ্লব চাকমা,সুখময় চাকমা, সজল চাকমা চাম্পা ও মনিরুল ইসলাম রতন।
সভাপতি পদের ছয় প্রার্থীর মধ্যে আলোচনায় এগিয়ে আছেন হৃদয় বিকাশ ও দীপক বিকাশ চাকমা। একজন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি,অন্যজন সহসভাপতি। ধারণা করা হচ্ছে,এই দুজনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। তবে নাসিরউদ্দিনও আছেন লড়াইয়ে। পিছিয়ে পড়তে পড়তে আপাতত যেনো ছিটকেই গেছেন জেলা পরিষদের দুই সদস্য সাধন মনি ও অমিত চাকমা।
সাধারন সম্পাদক পদের সব প্রার্থীই আওয়ামীলীগ,যুবলীগ,ছাত্রলীগের পরীক্ষিত নেতা। এদের প্রত্যেকেরই কম বেশি ত্যাগ ও অবদান আছে দলের জন্য। জেলা যুবলীগের সহসভাপতি শহীদুল আলম স্বপন সাধারন সম্পাদক পদে লড়তে ইতোমধ্যেই ছেড়েছেন যুবলীগও। সদর উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি অ্যাডভোটে বিপ্লবও ইতোমধ্যেই মাঠে আছেন বেশ জোরেসোরে,ছেড়েছেন যুবলীগের পদও। বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সজল চাকমা চাম্পাও আছেন সক্রিয়ভাবেই। আছেন আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুখময় চাকমাও লড়ছেন এই পদে। সাধারন সম্পাদক পদের ছয় প্রার্থীই গুরুত্বপূর্ণ ও সক্রিয় দলে,ফলে এদের মধ্যে ভোটকাটাকাটির লড়াইয়ে শেষাবধি কে জিতবে বোঝা মুশকিল।
সদর উপজেলা আওয়ামীগের সাংগঠনিক অবস্থান বরবারই বেশ দুর্বল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই উপজেলায় কিছুটা হলেও সংগঠনকে গুছিয়েছে দলটি। কিন্তু এই ইউনিটের বেশ কিছু নেতার বিরুদ্ধে আছে ‘ভাসা ভাসা সংগঠন’ করার অভিযোগ। এরা নামকাওয়াস্তে দল করে সুযোগ সুবিধা নিলেও দলের প্রয়োজনে বা কাজের সময় আঞ্চলিক দলগুলোর ভয় ও হুমকির অজুহাত দিয়ে মাঠে নামতে চায়না বা নামানো যায়না এদের। এবারের কাউন্সিলে এই বিষয়টি বেশ সক্রিয়ভাবেই বিবেচনা করছেন কাউন্সিলররা। একইসাথে জাতীয় বা আঞ্চলিক ভোটের সময় এলাকায় যেতে না পারলেও এখন কাউন্সিলের কারণে ভোটারদের কাছাকাছি ঠিকই যাচ্ছেন এসব নেতারা। বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষন করছেন কর্মীরাও।
সদর উপজেলা ৬৭ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ইতোমধ্যে মারা গেছেন ৩ জন। ফলে এখানে ভোট আছে ৬৪ জন। এদের সাথে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ৩১ জন এবং কোঅপ্ট করা ১৫ জনসহ মোট ২৬৫ জন কাউন্সিলর আজ সোমবার ভোট দিবেন নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে ।
নির্বাচন পরিচালনা কাজের সাথে নিয়োজিত নেতারা জানিয়েছেন, প্রথমে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করা হবে,যদি সমঝোতায় তারা রাজি না হন, তবে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হবে নতুন নেতৃত্ব।
