আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে রাঙামাটি সদর উপজেলায় নৌকার প্রার্থী নিয়ে নাটকীয়তা জমে উঠেছে। এই উপজেলায় যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা মজিবুর রহমান দীপু এবং স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহসভাপতি মোঃ শহীদুজ্জামান দলীয় মনোনয়ন পেতে আবেদন জমা দিয়েছিলেন।
রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হাজী মোঃ মুছা মাতব্বর শনিবার সকালে পাহাড়টোয়েন্টিফোর ডট কমকে জানিয়েছেন, সদর উপজেলায় দুইজন প্রার্থী থাকলেও মজিব জেলা আওয়ামীলীগের মধ্যস্থতায় শহীদুজ্জামানকে ছাড় দিয়েছেন। ফলে এই উপজেলায় একক প্রার্থী হিসেবে শহীদুজ্জামানই এখন চূড়ান্ত প্রার্থী।
তবে সাধারন সম্পাদকের বক্তব্য অস্বীকার করেছেন মজিবুর রহমান দীপু। যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সম্পাদক এই নেতা জানিয়েছেন, তারা তো কেন্দ্রে আমার নামই পাঠায়নি,এখন আবার বলছে আমি ছাড় দিয়েছি। আমি ছাড় দেয়ার তো প্রশ্নই আসেনা। মূলতঃ জেলা সাধারন সম্পাদক নিজের পছন্দের মানুষ হিসেবে শহীদুজ্জামানকে প্রার্থী করতেই এসব বলছেন। তিনি তো আগে থেকেই বলে আসছেন,শহীদুজ্জামানই প্রার্থী। তিনি সেটা করতেই পারেন,কিন্তু আমার সাথে তো কথাই বলেননি এসব বিষয় নিয়ে। জেলা আওয়ামীলীগ আমাকে ডাকতে পারতো,আমার বক্তব্য শুনতে পারতো,আমারও তো অধিকার আছে প্রার্থী হওয়ার। কিন্তু দল যদি নাও দেয়,কেনো দেয়নি বা দিবেনা,সেটা জানার অধিকারও তো আমার আছে।’ মজিব বলেন, এতোদিন দল করলাম,এই দলের জন্য হামলা,মামলা,জেল সবই ভোগ করলাম,কিন্তু এখন এভাবে নাম না পাঠানোর ঘটনাটি দলের জন্যই খারাপ দৃষ্টান্ত হলো,আমি হতাশ। ’
মজিব দাবি করেন, শনিবার আমি দলীয় কার্যালয়ে গেলে শহীদুজ্জামান আমাকে সালাম করতে আসে এবং আমাকে জড়িয়ে ধরে ছবি তুলে। এটাকেই আমি ছাড় দিয়েছি বলে প্রচার করা হচ্ছে। বিষয়টি দুঃখজনক।’
মজিব বলেন, দল যেহেতু করি,দলীয় সিদ্ধান্তই আমার কাছে চূড়ান্ত এবং দল যা বলবে সেটাই মেনে নেব। কিন্তু এইভাবে নাম না পাঠিয়ে,আমি ছাড় দিয়েছি বলে প্রচার করে কাউকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া দুঃখজনক। আমার বিশ্বাস, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনা এবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনে দলের ত্যাগি ও পরীক্ষিতদের মনোনয়ন দেয়ার জন্য যে নির্দেশনা দিয়েছেন,সেই অনুসারে,আমার নাম কেন্দ্রে গেলে আমিই দলীয় মনোনয়ন পেতাম।’
মজিবের বক্তব্যের পর আবার বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হাজী মোঃ মুছা মাতব্বর পাহাড়টোয়েন্টিফোর ডট কমকে নিশ্চিত করেন,মজিব ছাড় দিয়েছে এবং সে ছাড়া দেয়ার কারণে সদর উপজেলায় শহীদুজ্জামানই একক প্রার্থী।’ মজিবের অভিযোগের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি তা হেসে উড়িয়ে দেন।
