বর্ষা যেন রাঙামাটিবাসীর নিকট এক মুর্তিমান আতংকের অপর নাম। ভারী বর্ষণ শুরু হলেই শংকাকে সত্য প্রমাণ করে শুরু হয় পাহাড় ধস। বিগত তিন বছর যাবত এ শঙ্কা বেড়েছে কয়েক কয়েকগুণ।
জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে শুধু মাত্র রাঙামাটি শহরে পাহাড়ের পাদদেশে ২৫টি ঝুকিপূর্ণ এলাকায় বাস করে ৫ হাজারেও অধিক পরিবার। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে প্রাণহানি রোধে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) দুপুরে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা সমূহে সচেতনতামূলক সাইবোর্ড বসিয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
একই সাথে স্থানীয়দের মাঝে সচেতনা জন্য লিফলেট বিতরণ করা হয়। 
সম্প্রতি সময়ে রাঙামাটিতে প্রতিদিন মাঝারি মাপের বর্ষণের ফলে শহরের ঝুকিপূর্ণ এলাকা রূপনগর, শিমুলতলী, নতুন পাড়া এলাকা, মনতলা, যুব উন্নয়ন এলাকা সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়, এবং পাহাড়ে পাদদেশে বসবাসরতদের নিরাপদ স্থানে সড়ে যাওয়ার অনুরোধ জানান হয়।
এ সময় রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশীদ বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে যেসব কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে তারই অংশ হিসেবে শহরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আমরা সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিচ্ছি। এছাড়া
সবাইকে সচেতন করতে ও আশ্রয় কেন্দ্রের নামসহ প্রচার পত্র বিলি করছি, যাতে বিপদে তারা নিরাপদ স্থানে সরে যেতে পারে।’
এসময় জেলা প্রশাসকের সাথে রাঙামাটি পৌরসভার ওয়ার্ড ৬নং কাউন্সিলর রবি মোহন চাকমা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পল্লব হোম দাশ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, রাঙামাটিতে গত ২০১৭ সালের ১৩ জুন প্রবল বর্ষণে ভায়াবহ পাহাড় ধস ১২০ জন নিহত ও আহত হয় দুই শতাধিক মানুষ। সারা দেশের সাথে ১৭ দিন সকল প্রকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।
