পার্বত্য রাঙামাটিবাসির প্রাণের দাবি এই জেলায় একটি আইসিইউ স্থাপনের প্রস্তাবনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরে যেনো জেলাবাসির হৃদয়ের অনুভূতি ফের আরেকবার জয় করে নিলেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশীদ। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সাথে বিভিন্ন জেলার সরকারি কর্মকর্তাদের ভিডিও কনফারেন্সে ডিসি প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, রাঙামাটিতে একটি মেডিকেল কলেজ রয়েছে, কিন্তু এখানে কোন আইসিইউ নেই, এখানে একটি আইসিইউর খুব প্রয়োজন।’ এসময় প্রধানমন্ত্রী সম্মতি সূচক মাথা নেড়ে বিষয়টিকে নোট নিতে দেখা গেছে।
জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ প্রধানমন্ত্রীকে করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, রাঙামাটিতে এখন পর্যন্ত কোন করোনা আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়নি, তবে জেলায় অস্থায়ীভাবে ১৫০ বেড আইসোলেসনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও রোগী পরিবহনের জন্য ৪টি এ্যাম্বুলেন্স ও নৌপথে যে সকল উপজেলা আছে সেখান থেকে রোগি আনার জন্য ৪টি স্পিড বোট প্রস্তুত রাখা হয়েছে’
তিনি আরও বলেন, রাঙামাটি জেলার নিম্ন আয়ের মানুষ, যাদের খাদ্য প্রয়োজন, তাদের কাছে খাদ্য পৌঁছে দেবার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এ কাজে আমরা পুলিশ-সেনাবাহিনী সহ সবাইকে সাথে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যেই আমরা ৩২ হাজার ৮৮০ পরিবারের মধ্যে খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছি এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত আছে ‘
রাঙামাটিতে এখনো কোন করোনা রোগী পাওয়া না যাওয়া সন্তুষ্টি প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন- যে সাহায্য দিয়ে যাচ্ছেন, সেটা অব্যহত রাখবেন। আমরা যে ১০ টাকা দরে চাল দিচ্ছি, যারা কিনে খাবে, হাত পাতবে না এমন পরিবার হলে আমার মনে হয় এর পরে আমরা একটা রেশন কার্ডের ব্যবস্থা করে দিতে পারি, যাতে দুঃসময়ে তারা কিনে খেতে পারে।’
এর পর রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, আমরা করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করে যাচ্ছি। আমরা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয় থেকে কিছু খাদ্যশষ্য ও কিছু খয়রাতি টাকা পেয়েছি, যা জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে, জেলা প্রশাসকের সাথে পরামর্শ করে, প্রায় সাড়ে চার হাজার পরিবারের মাঝে বিতরণ করেছি। রাঙামাটির পশ্চাদপদ এই জনপদের খোঁজ নেয়ার জন্য রাঙামাটিবাসীর পক্ষে থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ প্রদান করেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা।
তিনি আরও বলেন, আমাদের এখানে সাজেকের সাথে সড়ক বা নৌপথে কোন যোগাযোগ নাই। কিছুদিন আগে সেখানে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিলো, আমরা ও সেনাবাহিনী-বিজিবি সহ সবাই মিলে চেষ্টা করে এখন কিছুটা নিয়ন্ত্রনে এসেছে। আমরা ও জেলা প্রশাসন সেখানে পুষ্টিকর খাদ্য বিতরণ করেছি। দুর্গমতার কারণে সেখানে এক কেজি চাল পৌছাতে ৪০টাকারও বেশি খরচ হয়, তারপরও আমরা সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।
এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ যেন না খেয়ে না থাকে, আর কোন লোক যেন গৃহহারা না থাকে। আমি জানি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিশাল এলাকা, অনেক দুর্গম দুর্গম জায়গা, আমরা অনেক রাস্তাঘাট করে দিয়েছি, আগামীতে আরও করবো।’ এটা বলেই প্রধানমন্ত্রী রাঙামাটি থেকে বিদায় নেন।
