জিয়াউল জিয়া
দুর থেকে দেখলে মনে হবে কোন একটি দোতলা বাড়ি ভেসে বেড়াচ্ছে হ্রদের বুকে। মূলত এটি হাউজ বোট বা ভাসমান রিসোর্ট। প্রচলিত ধারণা পাল্টে দিয়ে পর্যটকদের ভিন্ন কিছু সেবা দিতে কাপ্তাই হ্রদে চালু হয়েছে এই সেবা। পুরো বোটকে রূপ দেয়া হয়েছে একটি ঘরের। যাতে রয়েছে আধুনিক সব সুযোগ সুবিধা। যা ইতোমধ্যে পর্যটকদের কাছেও জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
রাঙামাটিতে বর্তমানে বেশ কয়েকটি হাউজ বোট রয়েছে। তারমধ্যে অন্যতম প্রমোদিনী, রাঙাতরী, স্বপ্নডিঙি, মাউরুন ইত্যাদি। সামনের নভেম্বরে আরও তিনটি যুক্ত হবার কথা হয়েছে। এই হাউজ বোট গুলোতে রয়েছে বিভিন্ন প্যাকেজ অনুসারে ভ্রমণ ট্রিপ। পারপারসন ৬ হাজার টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্যাকেজ রয়েছে হাউজ বোটগুলোতে। হাউজ বোটগুলোতে ১০ থেকে ১২ জন থাকতে পারে। কিছু কিছু হাউজ বোটে ১৫ থেকে ১৭ জনও থাকতে পারে।
পর্যটকরা যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি ভুলতে পরিবার-পরিজন কিংবা বন্ধু নিয়ে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে বেড়াতে আসছে। তাদের পছন্দের অন্যতম জায়গা হয়ে উঠছে এই হাউজ বোট। সারা দিন হ্রদের জলে ভেসে বৌদ্ধ বিহার, সুবলং ঝরণা সহ হ্রদ পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করার পরে রাতে হ্রদের জলে ভেসে ভেসে আড্ডা। হ্রদের বুকে ভাসমান এই বোটে নিরাপদে রাত্রিযাপন করতে পারছেন পর্যটকরা। সারাদিন হ্রদে ঘোরাঘুরি, সেই সাথে বাহারি সব খাবারের জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা ব্যবস্থা। যাতে মুগ্ধ পর্যটকরা।
রাঙাতরী হাউজ বোটে বন্ধুদের নিয়ে বেড়াতে আসা মো. সাইফ জানান, প্রথমে চিন্তা করেছিলাম কোন হোটেলে উঠবো। কিন্তু বন্ধুদের পরামর্শে আমরা হাউজ বোটে সারা দিন হ্রদে ঘুরে বেড়ালাম এবং রাতে হাউজ বোটে ছিলাম। সে এক অন্যরকম অনুভূতি। ভীষণ ভালো লাগলো এই হাউজ বোটে রাত্রিযাপন করে।
মো. আরিফ বলেন শহরে যান্ত্রিকতা আমাদেরকে আটকে রেখেছে। অফিস আর বাসা এই দুইয়ে যেনো জীবনটা আটকে রয়েছে। তাই হঠাৎ বন্ধুদের নিয়ে বেড়াতে আসলাম রাঙামাটিতে। বোটে রাত্রিযাপন বিষয়টি সারাজীবন মনে রাখার মতো।
প্রমোদিনী হাউজ বোটে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা জয়নাল আবেদীন ও তাসনিম আক্তার জানান, আমাদের বিয়ে হয়েছে তিন মাস হচ্ছে। বিয়ের পর এটি আমাদের প্রথম ট্যুর বলা যেতে পারে। পাশ থেকে তার স্ত্রী বলে উঠলো এটি আমাদের হানিমুন ট্যুর। আরফিন মেহেদী আরও বলেন, আমরা আমাদের নতুন জীবনের প্রথম ট্যুরটি স্বরণীয় করে রাখতে হাউজ বোটে করে কাপ্তাই হ্রদে ঘুরেছি এবং রাত্রিযাপন করেছি। বেশ ভালো লাগলো এরকম একটি নতুন অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা গ্রহন করে।
প্রমোদিনী হাউস বোটের স্বত্বাধিকারী দীপাঞ্জন দেওয়ান জানান, আমরাই প্রথম কাপ্তাই হ্রদে হাউজ বোটের সূচনা করেছি। বর্তমানে অনেকে এটি শুরু করেছে। আমি এটিকে প্রজেটিভ হিসেবে দেখছি। সুন্দর পাহাড় ও কাপ্তাই হ্রদকে কাজে লাগিয়ে আমরা পর্যটন সেক্টরে অনেক কিছু করতে পারি। হাউস বোট হচ্ছে পর্যটন সেক্টরের জন্য নতুন একটি উদ্যোগ। এটিকে ভালো ভাবে যদি পরিচিত করতে পারি তাহলে ঢাকা-চট্টগ্রাম সহ বিশে^ বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকরা এখানেই আসবে। যেমনটি কেরেলা ও কাশ্মির সহ বিভিন্ন জায়গাই হাউজ বোটে রাত্রিযাপন করে যাচ্ছে পর্যটকরা।
মাউরুম হাউজ বোটের দায়িত্বরত কর্মকর্তা উজ্জ্বল চাকমা জানান, আমরা বর্তমানে মোটামুটি সাড়া পাচ্ছি। আশা করছি সামনে পর্যটন মৌসুমে ভালো পর্যটকের সাড়া মিলবে। হাউজ বোট হচ্ছে পর্যটনের জন্য একটি নতুন সম্ভবনা। এটিকে আরও উন্নয়ন করা হলে পর্যটন ক্ষেত্রে ভালো ভূমিকা রাখবে এবং রাঙামাটির পর্যটন সেক্টর এগিয়ে যাবে।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী জানান, আমরা রাঙামাটিকে পর্যটন শহর হিসেবে সাজাতে বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছি। যা প্রক্রিয়াধীন। এটি সময় লাগতে পারে। তবুও আমরা ছোট ছোট নতুন পর্যটন স্পট তৈরির কাজ শুরু করেছি। আশা করছি এগুলোর কাজ শেষ হলে পর্যটকদের বিনোদনের নতুন কিছু স্থান তৈরি হবে।
Previous Articleতারুণ্যের ছোঁয়ায় দিনবদলের হাতছানি পাহাড়ের পর্যটনে
Next Article শুধুই সম্ভাবনার গালগপ্প,নেই কার্যকর উদ্যোগ
