জিয়াউল জিয়া ॥
সংঘর্ষ, যুদ্ধ ও মারামারি করে সব কিছু পাওয়া যায় না। পার্বত্য এলাকায় যুদ্ধ ছাড়াই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আলোচনা মাধ্যমে চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। চুক্তি একটি চলমান প্রক্রিয়া, শেখ হাসিনার ছাড়া আর কেউ চুক্তি বাস্তবায়ন করবে না।
বৃহস্পতিবার সকালে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটে পার্বত্য চট্টগ্রাম হেডম্যান সম্মেলনে পার্বত্য মন্ত্রী বীর বহাদুর উশৈসিং এমপি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, উন্নয়নের প্রধান শর্ত শান্তি। অপহরণ, চাঁদাবাজি ইত্যাদি বাড়ে তাহলে শান্তি ফিরবে না। আমরা যারা রাজনীতি করি পাহাড়ের জনগণের উন্নয়নের জন্য কাজ করি। অতীতের সমস্যাগুলো একদিনে সমাধান সম্ভব না। আমরা কাজ করে যাচ্ছি। হেডম্যানদের নানা দাবির প্রেক্ষিতে দাবিগুলো নিয়ে মাননীয় প্রধনমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, জুমে আগের মতো ফলন হয় না, চাষে উন্নত ব্যবস্থা বের করতে হবে। হেডম্যানরা মৌজার প্রধান তাদের কাছে সেই মৌজার বিস্তারিত কোন নথি থাকে না। তারা কোন গ্রামে কতজন মানুষ বসবাস করে কতজন মানুষের জমি চাষযোগ্য জমি আছে, এসব বিষয়ে হেডম্যানদের আরও কাজ করার সুযোগ আছে। বর্তমানে হেডম্যানরা বহুজনকে জমি বন্দোবস্তি দেয়, যার ফলে এলাকায় জমি বিরোধ তৈরি হচ্ছে।
পাহাড়ের মেয়েরা বাবার সম্পত্তির ভাগ পায় না। আমি মনে করি ছেলের মতো মেয়েরাও বাবার সম্পত্তির ভাগ দেয়া উচিত। আমি সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্ক ও নারী হেডম্যান কার্বারি নেটওয়ার্কের ফান্ডে আলাদা আলাদা অর্থ দিব যাতে করে ভবিষ্যতে তাদের এই অর্থ কাজে লাগাতে পারে।
সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্ক এর সভাপতি কংজরী চৌধুরীরর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উদ্বোধক ছিলেন চাকমা সর্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়, বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) ড. প্রকাশ কান্তি চৌধুরী, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধুরী, মং সার্কেল চিফ সাচিং প্রু চৌধুরী, রাঙামাটি জেলা হেডম্যান এসোসিয়েশনের সভাপতি চিংকিউ রোয়াজা, নারী হেডম্যান কার্বারি নেটওয়ার্কের সভাপতি জয়া ত্রিপুরা, এএলআরডি এর উপ-পরিচালকমিজ রওশন জাহান মনি, প্রায় তিনশতাধিক হেডম্যান কার্বারি এসময় উপস্থিত ছিলো।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতার কারণে ২০১২ সালে তিনি আমাদের সাথে আলোচনা করেছেন। আমরা আমাদের অনেক সমস্যা সরাসরি বলার সুযোগ পেয়েছিলাম। সেখানে কিছু দাবির কথা শুনে আমাদের আশ^স্থ করেছিলেন। সেগুলোও অনেককিছু বাস্তবায়ন হয়েছে। যেগুলি বাস্তবায়ন হয়নি সেই বিষয়গুলো নিয়ে মন্ত্রী মহোদয় নতুন করে আলোচনা করেন তাহলে হেডম্যানদের কাজের গতি আরও বাড়বে।
চাকমা সর্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় বলেন, রাজস্ব বৃদ্ধি করা জরুরি তবে তাতে করে জন ভোগান্তি যাতে সৃষ্টি না হয়। নারী কার্বারিদের এলাকায় যেসব কাজ হয় সেখানে তাদের যুক্ত করা। পাহাড়ে এখন বহু বিবাহ হচ্ছে তাই হেডম্যানরা তার মৌজায় বিয়ে হলে রেজিস্ট্রার করে রাখা যাবে বহু বিবাহ বন্ধে এটি কাজে আসবে। তিনি আরও বলেন, ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশনের কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ে বিধিমালা প্রণয়নের কাজটি পড়ে আছে মন্ত্রী মহোদয় যদি বিষয়টি তদারকি করেন তাহলে কাজের গতি আসবে।
হেডম্যান কার্বারিরা তাদের ভাতা বৃদ্ধি, খাজনা বৃদ্ধি, হেডম্যান কার্যালয় গঠনসহ নানা বিষয়ে মন্ত্রী বরাবর দাবি তুলে ধরা হয়। একই সাথে প্রথাগত বিচার ব্যবস্থা, বিবাহ অনুষ্ঠানে প্রথাগত রেজিস্ট্রার রাখাসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয় অনুষ্ঠানে।
