নিজস্ব প্রতিবেদক
২ জুলাই হলি আর্টিজান হত্যাকাণ্ডের ৫ম বার্ষিকী উপলক্ষে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির রাঙামাটি শাখা আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সভায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেছেন, ‘হলি আর্টিজান ক্যাফেতে জঙ্গী মৌলবাদীদের নৃশংস হামলার পর গত পাঁচ বছরে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী মাঠ পর্যায়ে ১৫ হাজার জঙ্গী মৌলবাদীদের গ্রেফতার করেছে। জঙ্গী মৌলবাদীদের মোকাবেলায় সরকার সাফল্যের পরিচয় দিলেও তাদের মৌলবাদী দর্শন ও রাজনীতির বিরুদ্ধে কোনও সরকারি উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলা মওদুদীর দর্শন ও রাজনীতি বাংলাদেশে এখনও প্রচারিত হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘এই একই দর্শন আল কায়দা, আইএসআইএস ও বোকো হারামের মতো আন্তর্জাতিক জঙ্গী মৌলবাদী সংগঠনসমূহ অনুসরণ করছে, যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক মানবিক রাষ্ট্র ও সমাজ ধ্বংস করে শরিয়াভিত্তিক খিলাফৎ প্রতিষ্ঠা করা। জঙ্গী মৌলবাদীদের এই দর্শন রাজনৈতিক ও আদর্শিকভাবে মোকাবেলা করতে হবে। যার দিকনিদের্শনা আমাদের ’৭২-এর সংবিধানে রয়েছে।’

নির্মূল কমিটি রাঙামাটি জেলা শাখার সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক সুনীল কান্তি দে’র সভাপতিত্বে ও নির্মূল কমিটি রাঙামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সৈকত রঞ্জন চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই ওয়েবিনারে বক্তব্য রাখেন- নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সমাজকর্মী কাজী মুকুল, নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক শওকত বাঙালি, নির্মূল কমিটির বহুভাষিক সাময়িকী ‘জাগরণ’ এর যুগ্ম সম্পাদক সুইডেন প্রবাসী লেখক সাব্বির খান ও সর্ব ইউরোপীয় নির্মূল কমিটির কমিটির সাভাপতি সমাজকর্মী তরুণ কান্তি চৌধুরীসহ জেলার নেতৃবৃন্দ।
এসময় একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি সভাপতি আরও বলেন, ‘ধর্মের নামে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলমান হত্যা, সন্ত্রাস ও সংঘাত মানবসভ্যতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৭১- এর মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশে ধর্মের নামে ৩০ লক্ষ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই গণহত্যার প্রতিবাদ দূরে থাক, স্বীকৃতিটুকুও দেয়নি। ’৭১-এর গণহত্যাকারীদের বিচার হয়নি বলে পাকিস্তান আজও নিজ দেশে বালুচ ও সিন্ধি জাতির ওপর গণহত্যা অব্যাহত রেখেছে। গণহত্যা চলমান রয়েছে মায়ানমার, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। গণহত্যার নিন্দা এবং গণহত্যাকারীদের বিচার না হলে ধর্মের নামে হত্যা, সন্ত্রাস ও হানাহানি থেকে বিশ্বাসী মুক্তি পাবে না, বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যাবে না।’
