উপস্থিত যারা ছিলেন তারা সবাই সনাতন ধর্মের অনুসারি নন,কেউবা মুসলিম,কেউবা বৌদ্ধ আবার কেউবা হিন্দু। এ যেনো দুর্গাপূজার ‘সার্বজনীন’ উৎসবের আবেদনটাই ছড়িয়ে দেয়া সবার মাঝে।
রবিবার বিকালে রাঙামাটি শহরের শ্রী শ্রী রক্ষা কালি মন্দিরে মমতাময়ী প্রকাশনা পরিষদের আয়োজনটি ছিলো এমন ভিন্নতায় ভরা,যেখানে স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক,গনতান্ত্রিক বাংলাদেশ যেনো টুকরো প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছিলো মৌন মুখর বিকেলে।
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে শিশুদের জন্য আয়োজন করা হয় চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা,যেখানে অংশগ্রহণকারিদের মধ্যেও ছিলো বৈচিত্র্য। সব ধর্মেরও জাতিগোষ্ঠির শিশুরাই অংশ নেয় প্রতিযোগিতায়। প্রতিযোগিতা শেষেই বিজয়ীদের দেয়া হয় ক্রেস্ট ও সনদ।
এরপর রাঙামাটি শহরের যেসব মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে তাদের সবাইকে দেয়া হয় সম্মাননা স্মারক। এরপর এবছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রকাশিত হওয়া ‘মমতাময়ী’র নতুন সংখ্যার মোড়ক উম্মোচন করা হয়।
সবশেষে পূজো উপলক্ষ্যে দরিদ্র ও অসহায় ৭০ নারীকে দেয়া হয় নতুন শাড়ী।
অনুষ্ঠানে মমতাময়ীর সম্পাদক মলয় ত্রিপুরা কিশোরের সভাপতিত্বে এবং দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পাদক ফজলে এলাহীর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সংবাদকর্মী শংকর হোড়, সমাজকর্মী নন্দন দে, ফ্রেন্ড এন্ড ফ্রেন্ডস এর সাধারন সম্পাদক বিপ্লব তালুকদার, রাঙামাটি চারুশিল্পী পরিষদের সভাপতি রেজাউল করিম রেজা,শ্রী শ্রী গীতাশ্রম মন্দিরের সভাপতি আশীষ দাশ গুপ্ত,সাহিত্যিক হাসান মনজু,পৌর কাউন্সিলর পুলক দে, একুশে পদকজয়ী সাহিত্যিক মংছেনছীন,শিক্ষাবিদ বাদল চন্দ্র দে,রাঙামাটি সরকারি কলেজে উপাধ্যক্ষ প্রফেসর বিধান চন্দ্র বড়–য়া। উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটির বিভিন্ন মন্দিরের সভাপতি, সম্পাদক কিংবা প্রতিনিধিরা। 
এসময় বক্তারা ব্যতিক্রমি এই আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আমরা যে অসাম্প্রদায়িক গনতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছি,সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে দেশকে ভালোবেসে,স্বস্তির ও শান্তির বাংলাদেশ নির্মাণে কাজ করে যেতে হবে।
