তিন দফার তফসিলেও নেই পার্বত্য অরণ্যসুন্দরী শহর রাঙামাটি। কবে হবে নির্বাচন সেটা নিয়েও সংশয়। আবার প্রধান দুই দলের প্রার্থী হবেন কে,সে বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছেন শীর্ষ নেতারা। চায়ের আড্ডা কিংবা পার্টি অফিস,কোথাও মুখই খুলছেন না,‘রহস্যের হাসি’ দিয়েই আপাতত কর্মীদের প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন তারা। টেনশনে ঘুম নেই সম্ভাব্য প্রার্থীদেরও। সব মিলিয়ে দোনোমনা যেনো আশপাশ,তবুও কাটছেনা ধোঁয়াশা !
ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ কিংবা প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপি অথবা আঞ্চলিক প্রভাবশালী দল জনসংহতির প্রার্থী হবেন কে বা কারা,সেই সম্পর্কে আপাত অন্ধকারেই যেনো পুরো রাঙামাটি ! মুখে মুখে কিংবা স্ট্যাটাসে স্ট্যাটাসে যদিও ভেসে বেড়াচ্ছে নানান প্রার্থীর নাম,যা মূলত বিভ্রমই বাড়াচ্ছে,নেই বাস্তবতার ছিঁটেফোটাও তাতে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায়,এনিয়ে প্রশ্ন করা হলে ‘চেনা কৌশলেই’ উত্তর এড়ালেন প্রধান দুই দলের দুই কূশলী ‘গেমমেকার’ হাজী শাহআলম ও হাজী মুছা !
জেলা বিএনপির সভাপতি হাজী মোঃ শাহ আলম বললেন-‘এখনো চূড়ান্ত করিনি কিছুই,একটু বাইরে আছি,রাঙামাটি ফিরি,আরেকবার সবার সাথে শলাপরামর্শ করি,তারপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাব।’ কবে নাগাদ আসবে সেই ঘোষণা- প্রশ্নে জানালেন-‘সম্ভবত আসছে সপ্তাহে’ই!’ এখন দেখার পালা,কার ভাগ্যের শেকল ছেঁড়ে জেলা বিএনপির শীর্ষ এই নেতার সেই কাংখিত ঘোষণায় !
ক্রমশ: রাজনীতিতে ‘পরিপক্ক খেলোয়াড়’ হয়ে উঠা রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বর তো আরেক কাঠি সরেস। কোনভাবেই মুখ খুলতে নারাজ ! নানাভাবে চেষ্টাতেও ‘টের পেতে দিলেন না’ কে হতে পারে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার মাঝি ! বললেন- ‘সময় হোক,ঘোষণা আসবে কেন্দ্র থেকেই,কেন্দ্রই এখন জানে সবকিছু,আমরা তো সবার নামই দিয়ে এসেছি।’

শাহআলম কিংবা মুছা,মুখে যাই’ই বলুন না কেনো,বাস্তবতা হচ্ছে,কেউ না জানুক,তারা দুজনই ‘কিছুটা হলেও জানেন’ কে হচ্ছেন তাদের প্রতীকের ভ্যানগার্ড, আসছে পৌর নির্বাচনে। কিন্তু ওই যে ‘ দুজনই রাজনীতির কূশলী কোচ’, ম্যাচ শুরুর আগে কেই’বা ফাঁস করতে চায় ‘একাদশ’ !
আওয়ামীলীগ-বিএনপির এই ধোঁয়াশা’র মাঝেও ঠিকই ‘অদৃশ্য আড়াল’ হয়েই আছে জনসংহতির প্রার্থী ! বরাবরের মতোই এবারো ঘোষনা আসার আগ অবধি ‘অজানা’ কে হচ্ছেন দলটির সমর্থিত প্রার্থী। পৌর এলাকায় ভোটের শতাংশিক হারে কিছুটা ‘ব্যাকফুটে’ থাকা দলটি,এই পৌর নির্বাচনে আদৌ প্রার্থী দিবে কিনা,এনিয়ে সংশয় আছে,দ্বিধা আছে সবারই,তবে তারচেয়ে বেশি আছে ভয়ও। কারণ প্রধান দুই দলের নীতি নির্ধারকরাই জানেন, জনসংহতি সমিতি মাঠে থাকাও ‘বিপদ’, না থাকা ‘আরো বেশি বিপদ’। তাদের ‘সংঘবদ্ধ ভোটে’র ‘কেন্দ্রমুখিতা’ কিংবা ‘কেন্দ্র বিমুখতা’ আর যাই হোক,ভোটের ফলাফলের ‘গণেশ’ উল্টে দেয়ার জন্য যথেষ্ট !
আপাতত তফশিল ঘোষনার জন্য ‘প্রতীক্ষা’,তারপর সেই কাংখিত ‘প্রার্থী ঘোষণা’ আর ‘ব্যাটলফিল্ডের যোদ্ধা’ হচ্ছেন কে কে শেষাবধি, সেটা দেখার অপেক্ষার ‘টেনশন’ই থাকতে হবে পাহাড়ের সবচে সুন্দর শহর ‘রাঙামাটি’র ভোটারদের।
